মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে স্বপ্না ফিজিওথেরাপী ও হিজামা সেন্টারের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনার বরাবরে অভিযোগ তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে স্যালভো কেমিক্যাল ​দুর্গম পাহাড়ে চালু হতে যাচ্ছে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দরপতনের শীর্ষে মেঘনা সিমেন্ট সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দর বৃদ্ধির শীর্ষে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে লেনদেনের শীর্ষে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) নিযুক্ত হওয়ায় ডিআরইউ’র অভিনন্দন ইসলামী ব্যাংকের সাথে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন-এর চুক্তি ডিপোজিট ও রিকভারি মান্থ উপলক্ষে প্রিমিয়ার ব্যাংকের কুমিল্লা ও সিলেটে টাউনহল মিটিং অনুষ্ঠিত আইএফআইসি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং লোগো ও দেশব্যাপী ইসলামিক সেবা ডেস্ক-এর উদ্বোধন

২ মাস আগেই রোজার পণ্যমূল্য বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৫১ Time View

প্রতিবছর রমজান মাসকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। রোজার কয়েক মাস আগেই নীরবে বাড়িয়ে দেয় নিত্যপণ্যের দাম। যাতে রমজানের শুরুতে অথবা কয়েকদিন আগে এসব পণ্যের দাম বাড়াতে না হয়।

অন্যদিকে ভোক্তারাও যেন বলতে না পারেন-‘রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।’ আবার রমজানের ঠিক আগমুহূর্তে সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যবসায়ীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো কোনো পণ্যের দাম সামান্য কমিয়েও দেন। বছরের পর বছর চলছে তাদের এই অপকৌশল। আর এর মাধ্যমে ওইসব ব্যবসায়ী প্রতিবছর নিরীহ ভোক্তার পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার কোটি টাকা। এবারও সেই চক্রটি একই কৌশল অনুসরণ করছে। রমজাননির্ভর পণ্যের দাম দুই মাস আগেই বাড়ানো হচ্ছে। আগামী মার্চে শুরু হচ্ছে রমজান।

কিন্তু অসাধুদের এই কারসাজির কৌশল ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও সব সময়ই রহস্যজনক কারণে ‘নীরব দর্শকের ভূমিকায়’ থাকে কর্তৃপক্ষ। নেওয়া হয় লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপ। কিন্তু আসে না কোনো কার্যকর ফল। কোনো বছরই ওইসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং নির্বিঘ্নে চালিয়ে গেছেন তাদের অপকর্ম। তাদের জাঁতাকলে কোনো কারণ ছাড়াই পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তা। এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, বরাবর দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা রমজানে পণ্যের দাম খুব কম বাড়ায়। রমজান আসার আগেই তারা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। অসাধুরা পরিকল্পিতভাবে কয়েক বছর ধরে এমনটা করছেন। এ কারণে সংস্থাগুলোর মনিটরিংও আগেভাগেই করতে হবে। কঠোর তদারকির মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যা আগে কখনোই নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, অযৌক্তিক মুনাফা করতে ব্যবসায়ীরা সময় ও সুযোগ বুঝে পণ্যের দাম বাড়ায়। তাই দাম নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গত ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু করে চলতি মাসের ১৫ তারিখ রোববার পর্যন্ত দুই মাসের ব্যবধানে রমজাননির্ভর পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি ছোলায় ৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। যা দুই মাস আগে ৮৫ টাকা ছিল। প্রতিলিটার বোতল সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা, আগে ছিল ১৮০ টাকা। দাম বেড়েছে লিটারে ৫ টাকা। প্রতিকেজি চিনি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। যা দুই মাস আগে ছিল ১১০ টাকা। কেজিপ্রতি ছোট দানার মসুর ডালে ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ১৩০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সাধারণ মানের খেজুরে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা। যা দুই মাস আগে ৪০০ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতিকেজি গুঁড়াদুধের দাম দুই মাসে বেড়েছে ৩০-১০০ টাকা। বর্তমানে ব্র্যান্ডভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮২০-৯০০ টাকা। যা আগে ৭৯০-৮০০ টাকা ছিল।

সম্প্রতি সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ আছে। মূলত বাজার ব্যবস্থাপনায় সমস্যা বলেই সেটা নিয়ে প্রথম পর্যায়ে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সেই দামটা বাজারে কার্যকর হচ্ছে কিনা তা দেখা হচ্ছে। তৃতীয়ত, কেউ উচ্চ লাভের আশায় মজুতদারি করেছে কিনা এসব আমরা মনিটরিং করছি। তিনি আরও বলেছেন, এ কথা ঠিক যখন একটু সংকট হয় তখন অনেক সময় বড় করে সেটাকে দেখিয়ে কেউ কেউ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বলতে চাই, পণ্য যথেষ্ট পরিমাণ মজুত রয়েছে। এলসি খোলার যথেষ্ট চেষ্টা চলছে। রমজান মাসে সমস্যা হবে না বলেই আমরা মনে করছি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। রমজানকে টার্গেট করে বিশেষভাবে তদারকি করা হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। দরকার হলে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS