দশ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ১৬ জানুয়ারি সারা দেশে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত জোট। এ সময় জনগণের অধিকার রক্ষায় যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন জোটের নেতারা।
বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিএনপির সমমনা দলগুলো রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। জাতীয়তাবাদী জোট, ১২ দলীয় জোটসহ বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত চারটি জোটের দলগুলো সকাল থেকে পল্টন, আরামবাগ, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। এ সময় নেতারা বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।
সরকার পতনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১০ দফা দাবির পাশাপাশি অবস্থান কর্মসূচিতে প্রতিবাদ করা হয় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের। ব্যাংক ও আর্থিক খাতসহ সব জায়গায় সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নেতারা। ঘোষণা দেন যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৬ জানুয়ারি সারা দেশে মিছিল করবে জোট।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি যেন বহাল থাকে। আমাদের এ দাবির পক্ষে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সব রাজনৈতিক দল এবং জনগণ রাজপথে নেমেছেন।’
আরেক নেতা বলেন, ‘আগামী ১৬ জানুয়ারি সব বিভাগীয় শহর, সব জেলা-উপজেলা শহরে এই কর্মসূচি (১০ দফা দাবি) বাস্তবায়ন করব আমরা।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘অনেকে এত লুটপাট করেছেন, বিদেশে বাড়ি বানিয়েছেন, বোঝেন এক ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধেই যদি আমেরিকায় ১৪টি বাড়ি বানানোর অভিযোগ থাকে, তাহলে আমাদের দেশের আসল ক্ষমতাবানরা, যারা এ রাষ্ট্র চালান তাদের কী আছে?’
ভবিষ্যতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানোর হুঁশিয়ার দেন নেতারা।
প্রসঙ্গত, অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বন্দিদের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকের পেছনে গণ-অবস্থান করেন ১২ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টা থেকে এ গণ-অবস্থান শুরু হয়। জোটের সমন্বয়ক ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদার পরিচালনায় গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।
তারা হলেন: বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনডিপির কারি আবু তাহের, বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টির আহসান হাবিব লিংকন, ইসলামী ঐক্যজোটের অধ্যাপক আবদুল করিম, জাগপার অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মুহিউদ্দীন ইকরাম প্রমুখ।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply