মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ

মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ২৮ Time View

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের উপকার করা এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির মূল লক্ষ্য। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে-এই বিশ্বাস থেকেই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তারেক রহমান। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও দিনাজপুর জেলা বিএনপি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এলাকাবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি দল, যে দল মানুষের উপকার হবে-এমন কাজ করার চেষ্টা করে। সেই লক্ষ্য থেকেই সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন শেষ হলে এলাকার প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি এই সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে এই খালের পানির সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

তারেক রহমান বলেন, খালটি চালু হলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের বেশির ভাগই গ্রামে বাস করে এবং তাদের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো জরুরি। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষও ভালো থাকবে। এ কারণে সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার কথা বলা হয়েছিল এবং সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাল খননের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার সময় পানি ধরে রাখা যায় না। ফলে একদিকে বন্যার সময় হঠাৎ করে উজান থেকে আসা পানি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। খাল খননের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে। সারা দেশে পর্যায়ক্রমে বড় পরিসরে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পানি সংরক্ষণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়। খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, সাহাপাড়ার খালের পাড়ে প্রায় সাত হাজার গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য খালের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হবে, যাতে এলাকার মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অনেক এলাকায় খাল ও নদীতে পানি না থাকায় কৃষকদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে হয়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই মাটির ওপরে থাকা পানিকে সংরক্ষণ করা এবং পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা জরুরি। কৃষকদের সহায়তায় নতুন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাবেন। শিগগিরই এর পাইলট প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের চার কোটি পরিবারের মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের সব এলাকার মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এ বিষয়ে কৃষি প্রক্রিয়াজাত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঈদের পর তাদের নিয়ে বৈঠক করে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ এ এলাকায় কৃষি-নির্ভর মিল ও শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এতে স্থানীয় তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমান উন্নত করা। তিনি বলেন, মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করা মানুষের আয় যেন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে যায়-এমন নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কৃষকের বন্ধু ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও কৃষকের পাশে থাকতে চায়।

দেশের উন্নয়নে জনগণের সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণই দেশের মালিক এবং জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করা সম্ভব নয়। তাই দেশ গড়ার এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশ গড়ার একটি নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানুষ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS