মেসি আর জুলিয়ান আলভারেজের গোলে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া পক্ষে একমাত্র গোলটি করেছেন ক্রেইগ গুডউইন। সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা আর্জেন্টিনার একটা সময় শেষ ষোলোতে পা রাখা নিয়েই ছিল শঙ্কা, সব উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে আকাশী-নীলরা পা রেখেছে শেষ আটে। সেখানে তাদের অপেক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে আসা নেদারল্যান্ডস।
আক্রমণের শুরুটা মেসির নেয়া ফ্রি-কিক থেকে। ডান-প্রান্তে, কর্নার ফ্ল্যাগ আর সাইড লাইনের খানিক সামনের জায়গায় ফ্রি-কিক নেন মেসি। অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণের খেলোয়াড় হেডে বলটা ফেরালেও ক্লিয়ার করতে পারেননি, বল চলে যায় আলেক্সিস ম্যাকআলিস্টারের কাছে, তিনি দ্রুত বল দিয়ে দেন মেসির কাছে। তার সঙ্গে ওয়ান-টু পাসে ততক্ষণে মেসি ঢুকে পড়েছেন বক্সের ভেতর। ১৫ গজ দূর থেকে মেসির জাদুকরি বাম পায়ের শট তিন জন অস্ট্রেলিয়ান রক্ষণ প্রহরীর ফাঁক দিয়েও ঠিকই খুঁজে নয় কাঙ্খিত গন্তব্য। ম্যাথু রায়ান ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বাঁচাতে পারেননি গোল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মেসির প্রথম গোলপোস্টে শট, প্রথম শটেই গোলের দেখা। যে গোলটা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির প্রথম ও সব মিলিয়ে নবম গোল। এই গোলে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে বিশ্বকাপের গোলসংখ্যায় ছাড়িয়ে গেলেন মেসি, ১০ গোল নিয়ে সামনে কেবলই গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ।একই সঙ্গে পেশাদার ক্যারিয়ারেও এটা মেসির ৭৮৯তম গোল।
মেসির ঠিক পেছনেই ছিলেন রদরিগো দি পল। মেসির পায়ে বল দেখে যেভাবে ‘হার্ড ব্রেক’ করে সটান দাঁড়িয়ে গেলেন জায়গায়, তাতেও প্রতিপক্ষ কম বিভ্রান্তিতে পড়েনি! বেশিরভাগ ডিফেন্ডারই চোখে চোখে রাখছিলেন ডি পলকেই। কিন্তু আচমকা বক্সের ভেতর ওভাবে ঢুকে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলের নিশানায় পাঠিয়ে দেয়া, এমন সব অবিস্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম দিতে পারেন বলেই না তিনি মেসি! অথচ এই গোলটার আগ পর্যন্তও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেশ ঘাম ঝরছিল আর্জেন্টিনার। উঁচু শারীরিক গড়ন আর গতি, এই দুইয়েই আর্জেন্টিনাকে বেশ চাপে রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া, মেসির গোলের আগের মিনিটেই তো হ্যারি সুটার একটা সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের।
একেবারেই খেলার ধারার বাইরে গিয়ে ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে গোল এনে দিয়েছেন মেসি আর তা দেখে মেসির এক সময়ের সতীর্থ পাওলো জাবালেতা রেডিও ধারাভাষ্যে বলেছেন, ‘মেসিকে শুধু বলটা দাও, এটাই যথেষ্ট। বক্সের ভেতর কী দারুণ সমন্বিত খেলা দেখা গেল আর নিখুঁত ফিনিশিং।’
প্রথম গোলটা যতটা মেসির কৃতিত্ব, দ্বিতীয় গোলটায় ততটাই অস্ট্রেলিয়ান গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানের নির্বুদ্ধিতা। ব্যাকপাস পা দিয়ে ধরতে গিয়েছিলেন, তখন তার পা থেকে বল কেড়ে নেন রিরিগো ডি পল। দুজনের বল দখলের লড়াইয়েই রায়ান পড়ে যান মাটিতে, ডি পল ফাউল না হওয়া বোঝাতে হাত তুলে দাঁড়িয়ে। তখন জুলিয়ান আলভারেজ আচমকাই বলটা রায়ানের পা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পাঠিয়ে দেন জালে। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটা পেয়ে আর্জেন্টিনা পেয়ে যায় কোয়ার্টার ফাইনালের সুবাস। তরুণ এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে এটা দ্বিতীয় গোল। পোল্যান্ডের বিপক্ষেও গোল করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা আলভারেজ, যার পরিচিতি মাকড়শা (লা আরানা) হিসেবে!
ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে মনে করিয়ে দেয়ার মতো ড্রিবলিংয়ে মাঝমাঠ থেকে বেশ কয়েকজনকে কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বক্স এর ভেতর ঢুকে গিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কর্নারের বিনিময়ে মেসিকে থামায় অস্ট্রেলিয়া। এক মিনিট পর বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাম পায়ে শট নিয়েছিলেন মেসি, যেটা যায় বারের উপর দিয়ে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল মেসির ক্যারিয়ারের ১০০০তম ম্যাচ আর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে শততম ম্যাচ। কী দারুণভাবেই না এই মাইলফলকে পা রাখাটা উদযাপন করলেন ফুটবলের জাদুকর।
এদিকে শেষ আটে ১০ ডিসেম্বর রাতে লুসাইল স্টেডিয়ামে মেসিদের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বেশ সহজেই ডাচরা পা রেখেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। মেমফিস দেপেই ম্যাচের ১০ম মিনিটেই গোল করে এগিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসকে।মধ্যবিরতির ঠিক আগে, যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুন করেন দানি ব্লিন্দ। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের হাজি রাইট গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনলেও মিনিট পাঁচেক পর নেদারল্যান্ডসের ডেনজেল ডামফ্রিস গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করে ফেলেন। এরপর আর গোল হয়নি।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply