চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) চার বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি চার বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। গত মাসে ৩৯৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৮ শতাংশের বেশি।
এদিকে গত মাসে দেশে ২৭৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে। এ আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। ফলে গত মাসে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় উভয়ই গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার প্রবাসী আয় ও পণ্য রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। দুই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের এই দুই উৎস থেকে ৬৭১ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবাসী আয় তাৎক্ষণিকভাবে দেশে এলেও রপ্তানি আয় আসতে কিছুটা সময় লাগে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ পাঁচ রপ্তানি খাতের মধ্যে চারটি—তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোমটেক্সটাইল এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, দুই মাস ধরে দেশে গ্যাস–বিদ্যুতের তীব্র সংকটের মধ্যে পণ্য রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় থাকা স্বস্তির বিষয়। উদ্যোক্তারা বিভিন্নভাবে রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। এতে খরচ বাড়লেও রপ্তানি অব্যাহত থেকেছে।
গত সেপ্টেম্বরে ৩০৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ২৮৪ কোটি ডলারের।
নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগামী দুই–তিন মাস আমাদের ভরা মৌসুম। সে হিসাবে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করছি।’
গত মাসে ১১ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ খাতে রপ্তানি হয়েছিল ৯ কোটি ডলারের পণ্য।
পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত মাসে ৯ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছর একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের পণ্য।
এ ছাড়া গত মাসে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ কম। অন্যদিকে হোমটেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে ১৩ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৯৭ কোটি ডলারে। তবে সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৭৭ কোটি ডলার। এর আগে সর্বশেষ গত মে মাসে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ছিল।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা এবং ডলারের আনুষ্ঠানিক দর স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসী আয়ের ধারা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ও রিজার্ভ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখছে।