মামুন মোল্যা, নড়াইল প্রতিনিধি: বন্ধু ও সহকর্মী সেনা সদস্য মাসুম বিল্লাহর দাফনে অংশ নিতে নড়াইলের কালিয়ার নড়াগাতীতে এসে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সেনা সদস্য সোহেল কাজী (৩২) ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি (২৮)। বুধবার ঝিনাইদহে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দহ গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর জানাজা শেষে তাঁকে বড়দহ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে সেনাসদস্য সোহেল কাজীকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তাঁর নিজ এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজা ও দাফনে স্বজন, সহকর্মী, সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
সোহেল কাজী নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার মাউলী ইউনিয়নের চরকলাগাছি গ্রামের মাহাবুর কাজীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম বিএমএ শাখায় প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সেনাসদস্য সোহেল কাজীর মরদেহ দাফনের আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় সামরিক সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। গার্ড অব অনারের পর সোহেল কাজীর বাবার হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সেনাসদস্য সোহেল কাজীর পরিবারের প্রতি সহায়তার অংশ হিসেবে তাঁর বাবার হাতে সহায়তার অর্থও তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত সেনাসদস্য, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু, হাসপাতালে মারা যান সোহেল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার বাইপাস সড়কের গ্যাস ডিপো এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে খুলনাগামী ‘গড়াই পরিবহন’ বাসের চাপায় তাঁদের মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
এতে ঘটনাস্থলেই জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি মারা যান। গুরুতর আহত সোহেল কাজীকে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
বন্ধুর দাফন শেষে ফেরার পথেই শেষ যাত্রা সোহেল কাজী তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী সেনাসদস্য মাসুম বিল্লাহর দাফনে অংশ নিতে নড়াগাতীতে এসেছিলেন। মাসুম বিল্লাহ গত ২৫ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বন্ধুকে শেষ বিদায় জানিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপার বড়দহ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন সোহেল।
কিন্তু বন্ধুর দাফন শেষে সেই ফেরার পথই হয়ে ওঠে তাঁদের জীবনের শেষ যাত্রা। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীকে হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজেও মারা যান সোহেল।
সেনাসদস্য সোহেল কাজী ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তুলির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নড়াগাতী, কালিয়া, নড়াইল ও ঝিনাইদহে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। শেষ বিদায়ের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।