মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কাভার্ড ভ্যানের গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৩৩০ কেজি চুল ছিনতাইয়ের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানের চালক ও ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ২৩ বস্তা চুল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—মো. শহিদুল ইসলাম (৪৭)। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের মো. বকুল হোসেনের ছেলে। অপরজন সানোয়ার হোসেন সান্টু (৩৯)। তিনি একই উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের মো. শুকুর আলীর ছেলে।
রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা পুলিশ এ তথ্য জানায়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে ২৩ বস্তায় প্রায় ৩৩০ কেজি চুল কিনে চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে আসেন। পরে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সমিতির নিজস্ব কাভার্ড ভ্যানে করে চুলগুলো দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার একটি প্রসেসিং কারখানায় নেওয়া হচ্ছিল।
গত ২২ আগস্ট দুপুর পৌনে ২টার দিকে কাভার্ড ভ্যানটি দামুড়হুদার কোষাঘাটা এলাকায় পৌঁছালে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি ভ্যানটির গতিরোধ করেন। এ সময় তারা চালক ও সংশ্লিষ্টদের জিম্মি করে ভ্যানের ভেতরে থাকা ২৩ বস্তা চুল নিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একাধিক দল। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় পুলিশ ঘটনাস্থলসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানের চালক ও ম্যানেজারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জানতে পারে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ আগস্ট ৩টা ৪৫ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া ২৩ বস্তা চুল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।