পুঁজিবাজারে ওয়ানস্টপ সেবা চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে শীর্ষ ১২ ব্রোকারহাউজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ফিনটেক কোম্পানি এক্সপার্ট ফিনটেক লিমিটেড। ইতোমধ্যে এ কোম্পানির তৈরি করা অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) সফলভাবে চালু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্রোকারহাউজের জন্য ব্যাক অফিস সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এছাড়া ম্যাচিং ইঞ্জিন তৈরি করার মতো বিষয় আগামী দিনের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ডিজিটাইজেশন অ্যান্ড ফিউচার চ্যালেঞ্জেস’ শিরোনামের এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এক্সপার্ট ফিনটেকের চেয়ারম্যান ও ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস। কোম্পানির কার্যক্রম ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন নির্বাহী পরিচালক । এতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন কোম্পানির পরিচালক ও ইউসিবি স্টক ব্রোকাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রহমত পাশা।
অনুষ্ঠানে ডিএসই ব্রোকারর্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভীসহ বিভিন্ন ব্রোকারহাউজের কর্ণধাররা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া তথ্য অনুসারে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শীর্ষ ১০টি ব্রোকারহাউজের উদ্যোগে ২০২১ সালে এক্সপার্ট ফিনটেক গঠিত হয়। পরবর্তীতে এর মালিকানায় যুক্ত হয় আরও ৩টি ব্রোকারহাউজ। বর্তমানে কোম্পানিটির তৈরি করা ওএমএস ১৬টি ব্রোকারহাউজ ব্যবহার করছে। ব্রোকারহাউজগুলো হচ্ছে-ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ, ইবিএল সিকিউরিটিজ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ, ওয়ান ব্যাংক সিকিউরিটিজ, এপেক্স ইনভেস্টমেন্টস, গ্রীনডেল্টা সিকিউরিটিজ, ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ, এনএলআই সিকিউরিটিজ, ফার্স্ট ক্যাপিটাল, রেমন সিকিউরিটিজ, মিকা সিকিউরিটিজ, ইনোভা সিকিউরিটিজ, এবি সিকিউরিটিজ, স্কাইলাইন সিকিউরিটিজ ও ওয়াইফ্যাং সিকিউরিটিজ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মোট লেনদেনের ৪৫ থেকে ৪৭ শতাংশ এক্সপার্ট ফিনটেকের ওএমএসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এই ওএমএস ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।
ইতোমধ্যে এক্সপার্ট ফিনটেক ব্রোকারহাউজের জন্য একটি ব্যাক অফিস সফটওয়্যার তৈরি করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলে এই সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য ম্যাচিং ইঞ্জিন তৈরি করতে আগ্রহী।
অনুষ্ঠানে এক্সপার্ট ফিনটেকের চেয়ারম্যান সুমন দাস বলেন, তারা পুঁজিবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বোচ্চ সেবা দিতে চান। স্থানীয় কোম্পানি এ ধরনের সেবা দিলে তার ব্যয় বিদেশী কোম্পানির তুলনায় কম হয়, পাশাপাশি দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়।
তিনি বলেন, তারা পুঁজিবাজারের বাইরেও তাদের সেবা সম্প্রসারিত করতে চান। ভবিষ্যতে কোম্পানিটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা এবং প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
অনুষ্ঠানে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, টেকনোলজির দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় আমাদের পুঁজিবাজারের কাঙ্খিত বিকাশ হয়নি।তাই সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এক্সপার্ট ফিনটেকের ওএমএস, ব্যাক অফিস সফটওয়্যারসহ অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্য সামগ্রিকভাবে বাজারের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে বাজারের সক্ষমতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা বাড়বে।
এক্সপার্ট ফিনটেকের পরিচালক রহমত পাশা বলেন, মুনাফা করা তাদের কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য নয়। প্রধান উদ্দেশ্য পুঁজিবাজারে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো যাতে এই বাজারের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি সহজ হয়।