
ঈদের পরদিন বিকেল ৪টার দিকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ চরহোগলায় সালিশ বৈঠকের সময় সংঘর্ষে খোরশেদ সিকদার (৫৫) নিহত হন।
আহত হন আরও চারজন,তোতা সিকদার, মোকশেদ সিকদার, সানজিদা বেগম ও রাকিব সিকদার; তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত খোরশেদ ঢাকার হাজারীবাগ ট্যানারির কর্মী, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন।
অভিযোগ, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও তাঁর ছেলে সেনাসদস্য নাঈম হাওলাদার (উজ্জ্বল)-এর নেতৃত্বে হামলায় তিনি প্রাণ হারান।
নিহতের মেয়ে নাছিমা বেগম বাদী হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন; প্রধান আসামি নাঈমসহ পাঁচজন নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী তোতা সিকদার জানান, প্রায় ২০ বছর আগের ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা পাওনা বিরোধে এসআই নাজমুল ইসলামের উপস্থিতিতে সালিশ চলছিল। বৈঠকের ভিডিও ধারণ নিয়ে তর্ক থেকে সংঘর্ষ বাধে এবং ঘটনাস্থলেই খোরশেদ মারা যান।
নিহতের ভাতিজা রাকিবের ভাষ্য, পুলিশের সামনেই হামলা হয়। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর পলাতক।
নিহতের মেয়ে, মামলার বাদী, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবার সঙ্গে ঈদ করার আশায় আমরা ঢাকা থেকে এসেছি। কিন্তু দেশে এসে ঈদের আনন্দের বদলে বাবার নিথর দেহ পেলাম। এই শোক কীভাবে সইব? ওরা বাবাকে বুকে-পিঠে, গোপনাঙ্গে লাথি, কিল-ঘুষি মেরে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমরা ওদের ফাঁসি চাই।
পৌর বিএনপির সদস্য সচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঘটনার পরপরই জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
থানার পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান জানান, এজাহার গৃহীত হয়েছে, লাশ সুরতহাল শেষে বরিশাল শেবাচিম মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply