
মোঃ নাজমুল ইসলাম মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর দানিউল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে মূল অভিযুক্তদের সনাক্তর মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্য্যলয়ে ১৭ জানুয়ারী সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানা গেছে, বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামে জিন্দাপীর মেলা চলাকালে ১৩ ডিসেম্বর/২০২৫ সকালে নিজ শয়নকক্ষের বিছানার ওপর বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে দানিউল ইসলাম (৫৫) এর গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ক্লুলেস, চাঞ্চল্যকর, রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মূসা, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আনোয়ার হোসেন-এর সার্বিক সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন কুমার, বীরগঞ্জ থানার অফিসার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, ওসি তদন্ত সিহাব উদ্দীন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে মাঠে নামে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল অভিযুক্তদের সনাক্তর মাধ্যমে ১৬ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলা পুলিশের একটি সমন্বিত চৌকস টিম অভিযুক্ত মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬) কে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে র্যাব-৬, খুলনার সহযোগিতায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
হত্যা মামলার অন্যান্ন আসামিরা হলেন-
বাগেরহাটের সদর উপজেলার মো. মোতালেব শেখের ছেলে মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬), দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ীর মৃত আলহাজ রজব আলী মোল্লার ছেলের মো. শাহ আলম কল্লোল (৫৬) ও মৃত দানিয়ূল ইসলামের স্ত্রী মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১)
গ্রেফতার আবু বক্কর ওরফে বাদশার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্যতম আসামি মো. শাহ আলম কল্লোলকে দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ীতে নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে মামলার অপর আসামি মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপিকে বীরগঞ্জ থানাধীন আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তথ্য-প্রযুক্তি গত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় সনাক্ত করা হয়।
অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল গত ৮ জানুয়ারি খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপর এক অভিযুক্ত সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী।
পরবর্তীতে গত ১৬ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলা পুলিশের একটি সমন্বিত চৌকস টিম বীরগঞ্জ থানার মামলা নং-১২, ১৩ জানুয়ারি, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ মূলে তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬) কে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে র্যাব-৬, খুলনার সহযোগিতায় গ্রেফতার করে।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল ও মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি পরস্পর যোগসাজসে আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনী ভাড়া করেন। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের সুবিধাজনক সময়ের অপেক্ষায় তারা থাকেন। বীরগঞ্জ থানাধীন আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামে জিন্দাপীর মেলা চলাকালীন লোকসমাগম বেশি থাকায় এ সময়টিকেই হত্যার জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করা হয়।
অভিযুক্ত পপি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে দানিয়ূল ইসলামের বাসায় প্রবেশ ও হত্যার কৌশল সংক্রান্ত একটি শর্ট ভিডিও শাহ আলম কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। এরপর আবু বক্কর ও তার সহযোগী পেশাদার খুনীরা দিনাজপুর সদরের বালুবাড়ীতে শাহ আলম কল্লোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দানিয়ূলের বাসার চাবি গ্রহণ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৩ ডিসেম্বর ভোর রাতে দানিয়ূল ইসলামের গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, নিহত দানিয়ূল ইসলাম পেশায় একজন স্বচ্ছল কৃষক ছিলেন। গত ১৩ ডিসেম্বর ভোর আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে নিজ শয়নকক্ষের বিছানার ওপর তার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি ছিল চাঞ্চল্যকর, রহস্যজনক ও ক্লুলেস। পরে অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি ও দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ফেলে দেওয়া ঘরের তালার চাবি উদ্ধার করা হয়।
এসময় পুলিশ কর্মকর্তার জানায়, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply