সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বৃদ্ধি বিদেশি গ্যারান্টিতে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক, লাগবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি কোম্পানি করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ালো এনবিআর পুঁজিবাজার ইস্যুতে বিএসইসি-এডিবির বৈঠক সপ্তাহের প্রথম দিনে ডিএসইতে দরপতনে শীর্ষে আইসিবি ইসলামি ব্যাংক সপ্তাহের প্রথম দিনে দর বৃদ্ধির শীর্ষে মার্কেন্টাইল ব্যাংক সপ্তাহের প্রথম দিনে লেনদেনের শীর্ষে ওরিয়ন ইনফিউশন জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে নিউইয়‌র্কে অবস্থানরত ৮৩ ও ৮৫ গ্রু‌প সা‌র্কেল এর ইফতার মাহফিল অনু‌ষ্ঠিত   হুয়াওয়ের ৮টি গ্লোমো অ্যাওয়ার্ড অর্জন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য প্লে-জোন নির্মাণ করল রবি

গাইবান্ধার তামাক চাষিদের বিবৃতি; প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা  

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৮ Time View

প্রস্তাবিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর কিছু ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলার তামাক চাষিরা। তাদের মতে, সংশোধনের বর্তমান খসড়ায় থাকা কয়েকটি প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে তামাক খাতের সঙ্গে যুক্ত গাইবান্ধার হাজার হাজার চাষির জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তামাক চাষিসহ সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলার তামাক চাষিরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটি অংশীজন সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো পর্যন্ত কুষ্টিয়ার তামাক চাষিদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। অথচ গাইবান্ধা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তামাক উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের অসংখ্য কৃষক তামাক চাষের ওপর নির্ভর করে তাদের পরিবার, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করেন। গাইবান্ধায় তামাক চাষ শুধু একটি ফসল নয়, এটি এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি জীবিকার ব্যবস্থা।

গাইবান্ধা জেলার তামাক চাষিদের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন পলাশবাড়ী উপজেলার গোলাম আযম, মো. জিয়ারুল, ও মিঠাপুকুর উপজেলার অর্জুন কুমার বর্মন, মো. হাফিজুর রহমান এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মো. সাদ্দাম, মো. আমিন মিয়া, মো. রনজ, আলমগীর কবির, মো. ফেরদৌস প্রমুখ।

বিবৃতিতে বলা হয়, তামাক খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বছরে প্রায় ২০ কোটি ডলারের তামাক রপ্তানি হয়, যা সরকারের রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চাষিদের মতে, খাতটির সঙ্গে যুক্ত অংশীজনদের উপেক্ষা করে কোনো আইন প্রণয়ন করলে এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে পড়তে পারে।

চাষিদের মতে, প্রস্তাবিত খসড়ার কিছু ধারা বাস্তবতার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে তামাকজাত দ্রব্যে প্রয়োজনীয় উপাদান নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি করবে। এর ফলে বৈধ বাজার সংকুচিত হয়ে অবৈধ সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের প্রসার ঘটতে পারে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি তামাক চাষ ও ব্যবসার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে তামাক চাষিদের ওপর। তাছাড়া প্রস্তাবনা অনুসারে, খুচরা বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হলে গাইবান্ধা অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতা প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

গাইবান্ধা অঞ্চলের চাষিরা বলেছেন, তারা একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পক্ষে। তবে সেই আইন অবশ্যই দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সারা দেশের লাখ লাখ ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতার ও প্রান্তিক চাষির জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত হতে হবে। সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীজন সংলাপের মাধ্যমে চাষিদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়ন সম্ভব। তাই আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত পরবর্তী আলোচনায় তাদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন গাইবান্ধার তামাক চাষিরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS