ঈদুল ফিতরের ঈদযাত্রায় দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত ও ৮৪৪ জন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ৪০২টি দুর্ঘটনায় ৪৪৩ জন নিহত ও ৮৬৮ জন আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব তথ্য জানান সমিতির মহাসচিব মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবারের ঈদে করোনা না থাকার কারণে বেশি মানুষের যাতায়াত হয়। এবারের ঈদযাত্রায় ২৫ লাখ মোটরসাইকেল ও ৪০ লাখ ইজিবাইক রাস্তায় নামে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার উল্লেখযোগ্য তৎপরতার কারণে ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বরাবরের মতো বেড়েছে।
৮৪৪ জন আহত হয়েছেন। ২০২১ সালের ঈদুল ফিতরে যাতায়াতের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ১৪.৫১ শতাংশ, নিহত ২২.৩৫ শতাংশ ও আহত ২৬.৩০ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে রেলপথে ২৭ ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ৩টি দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল। এবার ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত ও ১১০ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪.০৮ শতাংশ, নিহতের ৩৪.৮৫ শতাংশ ও আহতের ১৩.০৩ শতাংশ প্রায়।
এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় শিকার ২০৯ চালক, ২৪ পরিবহন শ্রমিক, ৮৮ পথচারী, ৬২ নারী, ৩৫ শিশু, ৩৩ শিক্ষার্থী, ২ সাংবাদিক, ৮ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ২ শিক্ষক, ৬ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একজন চিকিৎসকের পরিচয় মিলেছে।
দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ৩৮.৭৫ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৫.৪৯ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ৮.৪৫ শতাংশ কার-মাইক্রো-জিপ, ৫.২৩ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্রা, ৮.৮৫ শতাংশ অটোরিকশা, ৫.৪৩ শতাংশ ব্যাটারি চালিত রিকশা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল ও ১৭.৯০ শতাংশ বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
সংঘটিত দুর্ঘটনার ২০.৯৬ শতাংশ মুখোমুখি, ৪২.৪৭ শতাংশ পথচারীকে চাপা, ১৫.৩২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ১৯.৮৯ শতাংশ অজ্ঞাত কারণে, ১.০৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ ও ০.২৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩৩.৮৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৪.৩৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৩.৪৪ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.৮৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ২.৪১ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত হয়েছে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply