মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় গোলাগুলির শব্দ কমেছে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি শব্দ শোনা গেলেও অনেকটা বন্ধ রয়েছে বিস্ফোরণের শব্দ। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের টেকনাফের উলুবনিয়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির আরও ৬৩ সদস্য পালিয়ে এসেছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বিজিপি, সেনাসদস্যসহ মিয়ানমারের ৩২৭ জন।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২ টার দিকে উলুবনিয়ার সীমান্ত দিয়ে বিজিপির এই ৬৩ সদস্য পালিয়ে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারি।
তিনি জানান, পালিয়ে আসারা অস্ত্র জমা দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
বিজিবির সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিজিপি, সেনা সদস্যসহ মিয়ানমারের মোট ৩২৭ জন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মধ্য রাত থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত বন্ধ বলা যায়। বিচ্ছিন্ন কিছু শব্দ শোনা গেলেও গোলাগুলি শব্দ আর নেই।
এদিকে বুধবার ঘুমধুম সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে ধৈর্য ধারণ করে, মানবিক থেকে এবং আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, অবৈধভাবে আর একজনকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না।
বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়াদের বিষয়ে বিজিবি প্রধান বলেন, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যাচ্ছে। যারা আশ্রয় নিয়েছেন তাদের সঙ্গে আলাপ করেছি। তারাও দ্রুত ফেরত যেতে আগ্রহী।