আগের ম্যাচেই বায়ার্নের মাঠে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়েছে লিগ ওয়ানের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। লিওনেল মেসি-কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে থেকেও পারেননি দলের বিদায় ঠেকাতে। এ নিয়ে সমালোচনায় যখন মুখর সমর্থকরা, তখনই ফের পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় পড়েছিল প্যারিসিয়ানরা। তবে শেষ মুহূর্তের এমবাপ্পের গোলে এ দফায় বেঁচে গেছে পিএসজি।
শনিবার (১১ মার্চ) ব্রেস্তের মাঠ স্তাদে ফ্রান্সিস লা বেলেতে কিলিয়ান এমবাপ্পের শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে পিএসজি। কার্লোস সোলারের গোলে পিএসজি এগিয়ে যাওয়ার পর ফ্রাঙ্ক হনোরাতের গোলে সমতায় ফেরে ব্রেস্ত। এরপর ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের পথে এগুচ্ছিল তখন নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে প্যারিসিয়ানদের জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে পাখির চোখ করা পিএসজি আরও একবার ব্যর্থ হয়েছে ইউরোপিয়ান এলিটদের আসরে নিজের অবস্থান তৈরিতে। শেষ ষোলোর ম্যাচে নিজেদের বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হারার পর ব্যাভেরিয়ান ক্লাবটির মাঠেও হেরে গেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। দুই ম্যাচেই নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসি। প্রথম লেগে বদলি হিসেবে নেমে কিছুটা আলো ছড়াতে পারলেও দ্বিতীয় লেগেও ব্যর্থ এমবাপ্পে।
তারকাবহুল দল গড়েও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দুই মৌসুম শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়ার কষ্টেই হয়ত ব্রেস্তের বিপক্ষে লিগ ওয়ানের ম্যাচেও ছন্নছাড়া পিএসজি। ব্রেস্তের মাঠে তাই গোলের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রথমার্ধের ৩৭ মিনিট পর্যন্ত।
গোল পোস্টের ২৫ গজ দূর থেকে শট নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। সে শট ঠেকিয়ে দিলেও নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি ব্রেস্তের গোলরক্ষক বিজোত। কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা কার্লোস সোলার জালে জড়িয়ে দেন বল। ম্যাচে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি পিএসজি। পাঁচ মিনিট পরই হনোরাতের গোলে সমতায় ফেরে ব্রেস্ত। নিজেদের বাক্সে বল পাওয়ার পর লেস-মলু দারুণভাবে পিএসজির খেলোয়াড়দের কাটিয়ে দেল কাস্তিলোকে পাস বাড়ান। কাস্তিলোর লম্বা করে বাড়ানো বল চমৎকার দক্ষতায় রামোসকে কাটিয়ে নিজের পায়ে নেন হনোরাত এবং ডোনারুম্মাকে কাটিয়ে বিদ্যুতগতির শটে গোল করেন তিনি। সমতায় ফেরে ব্রেস্ত।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে পিএসজি। কিন্তু কিছুতেই জয়সূচক গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না মেসি-এমবাপ্পেরা। ধীরে ধীরে খেলা এগুচ্ছিল ড্রয়ের দিকে। তবে মেসি-এমবাপ্পে রসায়নেই পিএসজির জয় নিশ্চিত হয় ম্যাচের একদম শেষ দিকে।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে মেসি-এমবাপ্পে ঝলকে দারুণ এক গোল পায় পিএসজি। নুনও মেন্দেস ঠান্ডা মাথায় পাস বাড়ান মেসির উদ্দেশে। মেসি ফ্লিক করে সামনে বাড়ালে এমবাপ্পে এক দৌড়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আগুয়ান গোলরক্ষককে চমৎকারভাবে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়ান।
এ জয়ে ২৭ ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল লিগ ওয়ানের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। এক ম্যাচ কম খেলা মার্শেই ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। ২৭ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে ১৫ নম্বরে অবস্থান করছে ব্রেস্ত।