২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ীতে হামলাকারী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মশিউর রহমান রুবেলের গোত্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর অচ্যাচারে নবীনগর থানার কনিকাড়ার গ্রামবাসী অতিষ্ট। রুবেলের বাহিনীতে আছে (১) আব্দুল্লাহ, পিতা: আব্দুল বাতেন, গ্রাম: কনিকাড়া, (২) রিফাত, পিতা: আব্দুল আউয়াল, গ্রাম: কনিকাড়া, (৩) হৃদয়, পিতা: আব্দুল আউয়াল গং গ্রাম: কনিকাড়া। তারা গ্রামের শাস্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী, সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসা এবং নারী অপহরণের সাথে জড়িত। গত ২ মাস আগে ময়মনসিংহ জেলার একজন পুলিশ সদস্যের মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে আসে। ওই মেয়ের পুলিশ সদস্য পিতা র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় aরিফাত থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। যার নথি নবীনগর থানায় জমা আছে। কিন্তু রিফাতকে কার ইশারায় ওসি মোর্শেদুল আলম চৌধুরী গ্রেফতার করেননি সেটা রহস্যজনক। ধারণা করা হয় দেবিদ্বারের এসপি (সার্কেল) শাহিনের সুপারিশে সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করা হয়নি। শাহীন আওয়ামী লীগের কোটায় এ এসপির পদে বহাল তবিয়তে চাকুরী করছে। গ্রামবাসীর ধারণা, বিগত কয়েক বছর আগে তাদের সন্ত্রাসী অপকর্মের তথ্য প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় এক বৃদ্ধা মহিলাকে কেটে টুকরা টুকরা করে বস্তার ভিতরে ভরে ফেলে। তার ব্যাপারে কোন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগকারী মাওলানা আনোয়ার হোসাইন আনসারী বলেন, বিগত ২০ জুলাই, আমার ভাতিজা ২০২৬ আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা দেখার পর বিজয়ী দল স্পেনের খেলোয়ার ইয়ামালের সেজদাকে অনুস্মরণ করে মানসিক প্রতিবন্ধী আকবর হোসেন (জানি) আল্লাহর দরবারে সেজদা করায় সন্ত্রাসী রিফাত ও আব্দুল্লাহ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কিল-ঘুষি ও ইট দিয়ে তাকে মুখে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে এবং রক্তাক্ত করে ফেলে চলে যায়। এই ঘটনা ফেইসবুক, সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বহুল প্রচারিত হয়। বিগত ২১ জুলাই ২০২৬ এর জাতীয় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রায় ১৩টি পত্রিকায় প্রথম পাতায় ছবিসহ এই খবর প্রকাশিত হয়। সাংবাদিকরা থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শিদুল আলম চৌধুরী জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, তার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি- আসলে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। আমি ২১ শে জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতে অতিথি ভবন যমুনায় অংশগ্রহণ করার কারণে ঢাকা থেকে বাড়ীতে এসে অভিযোগ করতে একদিন দেরি হয়। ২১ শে জুলাই ২০২৬ তারিখে নবীনগর থানায় উপস্থিত হয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু নবীনগর থানার ওসি মোর্শেদুল আলম চৌধুরী থেকে কোন সহযোগিতা পাইনি। বরং আমাদেরকে হয়রানী করে গ্রামবাসী প্রতিবাদ সভার আয়োজন করলে মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ সভা বন্ধ করতে ওসি মরিয়া হয়ে ওঠেন। ২৫ শে জুলাই ২০২৬ বেলা ৩ ঘটিকায় কনিকাড়া ফুটবল মাঠে গ্রামবাসীর উদ্যোগে মাইকিং করে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. আর. মুজিব ও মেম্বার আহসান হাবীব, মেম্বার হুমায়ুন কবিরসহ শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামের জনসাধারণ উপস্থিত হয়ে প্রতিবন্ধী আকবরের উপর হামলার বিচার ও আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। কিন্তু নবীনগর থানার ওসির পক্ষ থেকে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। প্রতিবাদ সভায় সাধারণ জনগণ বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর প্রদান করেন। সন্ত্রাসীরা গ্রামের প্রতিবাদকারী কিছু লোকের নামের তালিকা করে এবং ম্যাসেঞ্জারে হত্যার হুমকি প্রদান করে। ১৪ হাজার বাসিন্দার এই শান্তিপ্রিয় গ্রামকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। জনগণ জানতে চায়, এই মাদকসেবী সন্ত্রাসীদেরকে পেশী শক্তির যোগানদাতা কে? জনগণের ধারণা সন্ত্রাসী গোত্রের এ এসপি (সার্কেল) শাহীন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের প্রশাসনিক সহযোগিতা করে এবং স্থানীয়ভাবে সোহেল ও জুয়েল স্থানীয়ভাবে সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে।