ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও কুলিয়ারচরের দুই থানার সমন্বয়ে টাস্কফোর্সের বিশেষ যৌথ অভিযানে ২ মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। ১ জুলাই বুধবার রাত ১১টায় উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য আস্তানা ও ভৈরব-কুলিয়ারচর সংযোগ কালী নদীর সেতু সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালনা করা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর।
অভিযানে শাহিন আলম (৪২) ও তপু মিয়া (২৭) নামের দুই মাদকসেবীকে আটক করা হয়। শাহীন আলম কুলিয়ারচরের বাজার এলাকার ব্যাপারী পাড়ার সাত্তার মিয়ার ছেলে ও তপু মিয়া একই থানার তাতারকান্দি এলাকার রকিব মিয়ার ছেলে। অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাধ্যমে দুই মাদকসেবীকে ২ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ। এ সময় টাস্কফোর্সের উপস্থিত ছিলেন, কুলিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াছিন খন্দকার, ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, কুলিয়াচর থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন, ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা তদন্ত কর্মকর্তা লিমন বোস। এ ছাড়াও র্যাব-১৪ সিপিসি-২ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা, ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আনসার, এনএসআই ও ডিজিএফআই এর সদস্যরাসহ দুই থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ভৈরব কুলিয়ারচরের সংযোগস্থল মানিকদী কালী নদী ব্রিজ। এছাড়া এ ব্রিজ এলাকা দুই থানার মানুষের জন্য একটি পর্যটক নগরী। সন্ধ্যার পর থেকে ব্রিজ এলাকায় বখাটে, মাদকসেবী ও মাদককারবারিদের বিচরণ বেড়ে যায়। স্থানীয়দের ও ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে আসা মানুষদের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় দুই থানার সমন্বয়ে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় সাংসদ মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাঁর মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।
ভৈরব-কুলিয়ারচরে মাদক ও ছিনতাই নির্মূল ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এদিকে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।