আজ ৫ই মে শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে সুশীল ফোরামের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খান হলে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে শাপলা চত্বরের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।
সুশীল ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আখতারুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে ইনসাফ গার্ডের সভাপতি খান রায়হান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষতের নাম। এই ঘটনার সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে এবং এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি।”
খান রায়হান অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই বাংলাদেশের মাটিতে বসে মহানবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার মতো দুঃসাহস যেন আর কেউ কখনো দেখাতে না পারে। যারা ইসলামের অবমাননা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঈমানি চেতনার এই দেশে নবীর অবমাননা আর কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ৫ই মে’র সেই ঘটনাপ্রবাহ এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও ধর্মীয় অধিকারের লড়াইয়ের অংশ। সত্য কখনো চাপা থাকে না এবং একদিন এই ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় স্পষ্টভাবে মানুষের সামনে আসবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আখতারুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের সত্যনিষ্ঠ বয়ান ও জাতীয় সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ওলামায়ে কেরাম এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একযোগে শাপলা চত্বরের ঘটনার সঠিক শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সভা শেষে শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
Leave a Reply