
লাকসাম উপজেলার আজগরা হাজী আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে উক্ত স্কুল এন্ড কলেজ দুর্নীতি আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই দুর্নীতির আখড়ার মূল হোতা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন ও আবু জাহিদ রাজু (সহকারী শিক্ষক কৃষি)। অনুসন্ধানে জানাগেছে, ১৯৬৭ ইংরেজি সনে লাকসামের আজগরা ইউনিয়নের শোতলা গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও দানবীর আলহাজ্ব আলতাফ আলী নিজ নামে আজগরা বাজারে উক্ত স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
আলহাজ্ব আলতাফ আলীর ইন্তেকালের পর (রুপসা কোম্পানি খ্যাত) তার ছেলেগণ উক্ত স্কুল পর্যায়ক্রমে পরিচালনা করে আসছেন।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন প্রতিষ্ঠাতাদের আত্মীয় হলেও দুর্নীতির কারণে এই মুহূর্তে তাদের ভিতরেও অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
আজগরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, যুবলীগের সাবেক সভাপতি, পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী উক্ত বিল্লাল হোসেন আজগরা হাজী আলতাফ আলী স্কুল এন্ড কলেজের বিভিন্ন খাতের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার খবরে এলাকায় তোলপাড় চলছে।
১ জানুয়ারি স্কুল অভ্যন্তরে ম্যানেজিং কমিটির সভায় উক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেনের দুর্নীতির বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সূত্র মতে বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী তাজ নেহার আক্তার মজুমদার উক্ত স্কুলের সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার) হিসেবে নিয়োগ থাকলেও নিয়মিত সে স্কুলে আসে না এবং তার সার্টিফিকেট ভুয়া বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
অফিস সহকারী হিসেবে সাজেদা আক্তারের নিয়োগ থাকলেও তার দায়িত্ব তাকে পালন করতে দেওয়া হয়না বলে সূত্রের দাবি। এখানে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) আবু জাহিদ রাজু অফিস সহকারীর সকল দায়-দায়িত্ব সহ বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব আবু জাহিদ রাজু পালন করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই আবু জাহিদ রাজুকে হাত করে সকল অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছে বিল্লাল হোসেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক গঠিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি জানুয়ারি ২০২৩ থেকে জুন ২০২৫ ইং পর্যন্ত অডিট কার্যক্রম সম্পাদন করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ১৪ টি অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছে তদন্ত কমিটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১০ আগষ্ট ২০২৫ ইং তারিখে ৮৪৪ নং স্মারকে লাকসাম উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আল-আমিন, মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব হাই স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ বিল্লাল হোসেন এবং মোঃ কাউসার ইকবাল এই ৩ জনকে আজগরা হাজী আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জানুয়ারি ২০২৩ ইং থেকে জুন ২০২৫ ইং পর্যন্ত অডিট করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ওই নির্দেশের আলোকে ২৭ আগষ্ট উক্ত কমিটি আজগরা হাজী আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ অডিট করেন।
অডিট কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, স্কুল পর্যায়ের ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি ফি, সেশন ফি, বেতন আদায়, পরীক্ষার ফি, ফরম পূরণ ও প্রশংসাপত্র ফি বাবদ টাকা আদায়ের কোন রেজিস্টার ও রিসিট পাওয়া যায়নি।
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছত্রীদের ভর্তি ফি, বেতন আদায়, পরিক্ষার ফি, সেশন ফি, ফরম পূরণ ফি বাবদ অর্থ আদায়ের কোন রেজিস্টার ও রিসিট বহি পাওয়া যায়নি।
টাকা খরচের ভাউচারে অফিস প্রধানের স্বাক্ষর নেই এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদন নেই।
ভাউচারে ভাউচার নাম্বার, ক্রেতা-বিক্রেতার স্বাক্ষর, ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের নাম নেই।
প্রতিষ্ঠানের ক্রয় কমিটি নেই।
জুলাই ২০২৪ সালের ভাউচারে (ক) কম্পিউটার ক্রয়ে অসংগতি, কোটেশন ছাড়া ৫১ হাজার ৫০০ টাকার কম্পিউটার ক্রয়, (খ) অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা বাবদ বিলের ভাউচার নেই, (গ)শিক্ষকদের সম্মানীভাতা বাবদ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা বিতরণের কোন স্বাক্ষর বা প্রমাণ নেই, (ঘ) ক্যাশবহিতে টাকার অংকে ফ্লুইড ব্যবহার করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মাসের বিল ভাইচার বিদ্যুৎ বিলের ভাউচার এর সাথে ক্যাশ বহির মিল নেই।
ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইং মাসের ইন্টারনেট ক্যাবল ক্রয় বাবদ ৮ হাজার ৫০০ টাকার ভাউচার নেই।
জানুয়ারি ২০২৫ ইং মাসের স্টেশনারী বাবদ ২ হাজার ৫ শ ৭০ টাকা এবং বিদ্যুৎ বিলের ২ হাজার ৭ শ ১৭ টাকার ভাউচার নেই।
ক্যাশ বহিতে আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেই।
ক্যাশ বহিতে ভাউচারের তারিখের ক্রমানুসারে উত্তোলন করা হয়নি।
মাস প্রতি খরচের হিসাবের গড়মিল পাওয়া গেছে।
প্রতিষ্ঠানের স্টক রেজিস্টার ও স্থায়ী মালামালের জন্য স্থায়ী রেজিস্টার দেখাতে পারেনি।
অডিট কমিটিকে খাত ভিত্তিক মাসিক আয় ও ব্যয়ের বিবরণী ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট সরবরাহ করতে বলা হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান ওই কাগজ সরবরাহ করেনি।
আজগরা হাজী আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেনের উপরোক্ত অনিয়ম-দূর্নীতির আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে অডিট কমিটি।
সূত্র জানিয়েছে, আজগরা হাজী আলতাফ আলী স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হওয়ার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও বিল্লাল হোসেন নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচালনা করতে গিয়ে উক্ত স্কুল এন্ড কলেজকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন।
বিল্লাল হোসেনের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply