সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, বৈধ আয়ের টাকা দিয়ে কেউ কোটি টাকার গরু কিংবা ১৫ লাখ টাকার ছাগল কোরবানি দিতে পারেন না। এটা যারা করেছেন তাদের অবৈধ আয় আছে।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দুর্নীতি-অনিয়ম দায়ী উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যেই বাজারে দুর্নীতির অবাধ প্রবাহ থাকে, সেই বাজার কোনোদিন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সেটা সম্ভব না।’
এ সময় কোটি টাকার গরু এবং ১৫ লাখ টাকার ছাগলের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এবারের কোরবানির ঈদের সময় ছোট দুটি ঘটনা, যেটা নিয়ে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটা গরু ১ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। যার মাংস হবে ১৪০০ কেজি। প্রতি কেজির দাম আসে প্রায় ৭ হাজার টাকা। এটা কারা কিনলো। কীভাবে কিনলো? বৈধ উপায়ে যাদের আয়, তারা এভাবে টাকা খরচ করে কিনতে পারে না। যাদের অবৈধ উপায়ে আয় আছে তারাই কিনতে পারে। একটা ছাগলের মূল্য, যেটা সর্বোচ্চ ১২০ কেজি হবে। ১৫ লাখ দিয়ে কিনেছে। এটা কারা করেছে? যাদের অবৈধ আয় তারা কিনেছে। বৈধ আয়ের কেউ এভাবে টাকা পানিতে ফেলতে পারে না।’
বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে জানিয়ে সরকার দলীয় এ সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীও দুর্নীতিকে বরদাশত করেন না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দফায় দফায় বেতন বাড়ানো হয়েছে। সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। অথচ তারা দুর্নীতি করে। কিন্তু দুর্নীতির অপরাধে তাদের শাস্তি হয় না। উল্টো তারা পদোন্নতি পায়, পেনশন পায়। তাদের জন্য আইন সহজ করা হয়েছে।’
রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি করে না জানিয়ে হানিফ বলেন, যখন দুর্নীতির কথা ওঠে, সবাই আঙুল তুলে দেখায় রাজনীতিবিদদের দিকে। এটাই আমাদের দেশে প্রচলিত আছে। অথচ রাজনীতিবিদ যারা সংসদ সদস্য আছেন, একমাত্র মন্ত্রী ছাড়া কোনো রাজনীতিবিদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তাহলে তারা কীভাবে দুর্নীতি করবে? দুর্নীতি হয় তো সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে। সেখানে জড়িত সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের সহযোগিতা ছাড়া দুর্নীতি সম্ভব না।
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হানিফ আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক তথ্যে এসেছে, সেখানে প্রায় ১ হাজার দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। এটা শুধু অভিযোগ জমা পড়েছে। এমন কত ঘটনা সামনেই আসে না। কিন্তু তাদের বিচার হয়েছে কি? হয়নি।’