শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে তারেক রহমান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্মৃতিসৌধ এলাকায় প্রবেশে সীমাবদ্ধতা রূপগঞ্জে প্রয়াত যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া`র বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় স্মরণ সভা, দোয়া মাহফিল ও ইফতার অনুষ্ঠিত ১৭ বছরের জটিলতা কাটাতে কাজ করবে সরকার: এ্যানি ঈদে নিরাপদ ট্রেনযাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা: রেলপথমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শুরু হলো ঈদ ফেরত যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কে ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এমটবের নির্বাচিত সভাপতি রবি আজিয়াটার এমডি জিয়াদ সাতারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদকে কার্যকর করার আহ্বান তারেক রহমান-এর

গোলাপবাগে কী গোলাপ পেল বিএনপি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২০৯ Time View

চট্টগ্রাম শহরে বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রায় দুই মাসব্যাপী গণসমাবেশ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যা শেষ হয়েছে শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাছে গোলাপবাগ মাঠে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে। আগে তারা আরও ৯টি সমাবেশ করেছে। ঢাকায় দশম সমাবেশকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে।

সমাবেশের আগে বিএনপি নেতারা ব্যাপক উসকানি ও উত্তাপ ছড়ালেও ১০ ডিসেম্বর ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ক্ষেত্রে যে শর্তগুলো দেয়া হয়েছিল, একই শর্তে গোলাপবাগে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি মেলে। কিন্তু সমাবেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আগের মতো কোনো উত্তাপ ছিল না। কর্মীতে মাঠ টইটুম্বুর থাকলেও বিএনপি এমন কোনো ঘোষণা দিতে পারেনি, যাতে তাদের মধ্যে নতুন কোনো আশা জাগতে পারে।

এছাড়া ঢাকায় শেষ সমাবেশ দিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ফসল ঘরে তুলতে পেরেছে বলেও মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা।

বিএনপিই ক্ষতিগ্রস্ত

গোলাপবাগে বিরোধী দল বিএনপির সমাবেশ ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। বরং নয়াপল্টনে খোলা সড়কে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে যে সংঘাত সৃষ্টি করেছে, তাতে দলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তার ধারণা।

রোববার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে সময় সংবাদকে তিনি বলেন, বুধবার (৭ নভেম্বর) নয়াপল্টনে সংঘাতে জড়িয়ে বিএনপি নিজেদের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে। এরমধ্য দিয়ে তারা ২০১৩-২০১৪ সালের মতো অগ্নিসন্ত্রাসের দিকে যাচ্ছিল। যা ছিল সত্যিকারের আতঙ্কের।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের কর্মসূচি ছিল ১০ ডিসেম্বর। এর তিন দিন আগে নয়াপল্টনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে একজন নিহত হন। আহত হন অনেকে। সংঘর্ষের পরই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।

আবদুল মান্নান বলেন, সংঘর্ষে বিএনপির লোকজন যেমন হতাহত হয়েছেন, তেমনি পুলিশের চল্লিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রমনা থানার ওসির মাথায় চল্লিশটির বেশি সেলাই লেগেছে। এগুলো তো এড়ানো যেত, যদি তারা গোঁ না ধরতো। কিন্তু এই জেদের কোনো কারণ তাদের সামনে ছিল না।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা করা সৌভাগ্যের ব্যাপার জানিয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ দিয়েছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। ইন্ধিরা গান্ধী ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে সমাবেশ করায় কোনো অসুবিধা থাকার কথা না।

তিনি বলেন, পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ৬৮ একর জায়গা। আর ব্যবহারযোগ্য অর্থাৎ সভা করার জায়গা ৩০ একর। আমি নিজেও সেদিন সেখানে গিয়েছি। কাজেই ৩০ একর জমি রেখে তাদের রাস্তা বন্ধ করে সভা করতে কেন সুযোগ দেয়া হবে? এটার কোনো কারণ নেই। ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সময়ে করা পুলিশ অধ্যাদেশের ২৯ ও ৩০ ধারা অনুসারে, পুলিশ চাইলে জনস্বার্থে যে কোনো এলাকা অস্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে। সেদিন (বুধবার) বিএনপিকে রাস্তার এক পাশ ছেড়ে দিতে বলেছিল পুলিশ। উঠে যেতে বলেনি। কিন্তু তারা দু’পাশই বন্ধ রেখেছিল।

বিএনপির এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অপরিপক্কতা বলে মন্তব্য করেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘তারা সবাই রাজনীতিবিদ। আমার ব্যক্তিগত ধারণা হচ্ছে, বিএনপি অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝামেলা পাকিয়েছে। এতে শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

সাত এমপির পদত্যাগে নেই রাজনৈতিক সুফল

গোলাপবাগের বহু আলোচিত সমাবেশে নেতাকর্মীদের সামনে সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির এমপিরা। দলটির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এই সংসদে থাকা-না থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

এরইমধ্যে রোববার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে গিয়ে সশরীরে পদত্যাগপত্র জমা দেন পাঁচ এমপি। তাদের আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে বাকিদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বিএনপির এমপিদের মধ্যে বগুড়া-৭ আসনের জি এম সিরাজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ এর জাহিদুর রহমান, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের রুমিন ফারহানা রোববার (১১ ডিসেম্বর) সকালে সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এই পদত্যাগ নিয়ে জানতে চাইলে আবদুল মান্নান বলেন, এতে সরকারের কোনো কিছুই হবে না। যদি সংসদে তাদের ১৭০ জন সদস্য থাকতো, তখন সেটা ভিন্ন কথা ছিল। তাদের সাত এমপি পদত্যাগ করলে আইন অনুসারে উপনির্বাচন হবে।

শনিবার এক জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেন, বিএনপির সাতজন চলে গেলে সংসদ অচল হয়ে পড়বে- এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং এ জন্য দলটিকে অনুতাপ করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, ‘এর মধ্য দিয়ে তারা বলতে পারল যে সংসদ থেকে আমরা পদত্যাগ করলাম। আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেখানে আওয়ামী লীগের, সেখানে পাঁচ-সাতজন সদস্য পদত্যাগ করলে সংসদের কার্যক্রমে তেমন প্রভাব পড়বে না।’

সময় সংবাদকে তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) কেবল বলতে পারবে আমরা পদত্যাগ করেছি। সংসদে নেই। সংসদ একদলীয় হয়ে গেছে। এতে অন্য কোনো প্রভাব আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না।’

এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপি বড় কোনো রাজনৈতিক ফল পাচ্ছে কিনা; জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গণে সংসদকে একতরফা হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারবে। এটুকুই। এর বাইরে কোনো ফল আসবে বলে আমি মনে করি না।’

পদত্যাগ কোনো সমাধান না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ করে তারা কী অর্জন করতে পারবে; তা আমার বোধগম্য না। কারণ পদত্যাগ কোনো সমাধান আনে না। বরং তারা জাতীয় সংসদে থেকে যদি তাদের কথাগুলো বলতো, সেটা জাতির কাছে একটা বার্তা দিত। সংসদ ছিল তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।’

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলার গুরুত্ব অনেক বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা কোন কৌশলে পদত্যাগ করেছে, আমার বোধগম্য না।’

তারেক রহমান দেশে আসেননি

গেল ৮ অক্টোবর এক সভায় ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেছিলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায় দেশ চলবে। আর কারও কথায় না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, প্রস্তুতি নিন, কর্মসূচি আসছে; কাঁচপুর ব্রিজ, টঙ্গী ব্রিজ, মাওয়া রোড, আরিচা রোড, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাটুরিয়া—সারা বাংলাদেশ বন্ধ করে দেবেন। এই বাংলাদেশ চলবে না। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া কারও কথায় দেশ চলবে না।

তার এই বক্তব্যে গেল দুই মাস রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল সরগরম। কিন্তু দেশে তারেক রহমান আর আসেননি। কেবল সভামঞ্চে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে দুটি চেয়ার খালি রাখা হয়; যা ছিল প্রতীকী।

গোলাপবাগের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সেই আমানউল্লাহ আমানই। কিন্তু সেখানে তার বক্তব্যের সুর আর চড়া ছিল না। এক নতজানু আমানউল্লাহ আমান মঞ্চে উঠে সভাপতির বক্তব্য দিয়েছেন।

এবার তিনি জানান, জনগণের সমর্থনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেখ হাসিনার পদত্যাগে বিশ্বাসী তারা।

সমাবেশ শেষ হলে শান্তিপূর্ণভাবে নেতাকর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান আমান। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। তারপরও সরকার বিএনপি মহাসচিবসহ দলের নেতাদের গ্রেফতার করেছে। কারণ সরকার ভয় পেয়েছে।’

সভায় সরকারকে তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়েছেন। যদিও তা ছিল চরম অবাস্তব। আমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভয় পেয়েছেন। আমেরিকা থেকে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আরও আসবে। এরপর নিষেধাজ্ঞা আসবে শেখ হাসিনার ওপর।’

এভাবে অকারণ মন্তব্য করে রাজনৈতিকভাবে বিএনপি নিজেদের অনেক ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, তারা একটা সুর তুলেছিল, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান আসবে। এসবের কোনো দরকার ছিল না। তার মতে, তারেক রহমানের মতো একটা দুর্বৃত্ত কীভাবে নেতা হয়। সে তো আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ।

হেফাজতের মতো পরিকল্পনা ছিল বিএনপির

সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিএনপি মিথ্যা আশা তৈরি করেছিল বলে জানান আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, এখানে বিএনপি পল্টনে হেফজতের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছিল। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজত যেটা করতে চেয়েছিল, বিএনপিও সেই পথে এগিয়েছিল। তাদের দুরভিসন্ধি ছিল যে, তারা ওখানে বসে যেতে পারলে আর ওঠবে না। যে কারণে চাল, ডাল, চিনিসহ রান্নার সব দ্রব্য নিয়ে এসেছিল তারা। বিএনপি দেশে ও দেশের বাইরে জিকির তুলে একটা প্রচার চেয়েছিল, কিন্তু সেটা ভালো কিছু হয়নি।

গোলাপবাগে বিএনপির সমাবেশে মানুষের উৎসাহে ঘাটতি ছিল কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে লোকজন কখন উৎসাহিত হয়, যখন কোনো ক্যারিশম্যাটিক নেতা থাকেন। এক বঙ্গবন্ধু সাড়ে সাত কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পেরেছেন। আরেকটা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে হবে না। ৭ মার্চ আমি নিজে কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেছি। মওলানা ভাসানিরও একটা ক্যারিশমা ছিল।’

বিএনপিতে কোনো ক্যারিশম্যাটিক নেতা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন শেখ হাসিনার মধ্যেই ক্যারিশম্যাটিক ক্ষমতা আছে। তিনি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।

ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে খোলা সড়কে গণসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। যখন তারা এই ঘোষণা দেয়, তখন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোনো অনুমেদন নেয়নি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকার সমাবেশ করতে বিএনপিকে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু দলটি জেদ ধরে থাকে যে, তারা নয়াপল্টনের সড়কেই সমাবেশ করবে এবং ১০ লাখের বেশি মানুষের জমায়েত ঘটাবে। তাদের এই জেদ একসময় সংঘাতে রূপ নেয়।

বিএনপিতে ত্যাগী নেতার অভাব

সমাবেশের সফলতা নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বিএনপি একটি নেতৃত্বশূন্য দল। এখন অনেকটা ক্লাবের মতো হয়ে গেছে। তাদের নেতাদের বক্তব্যে নতুন কিছু নেই। তারা সকালে স্বপ্ন দেখে বিকেলে আওয়ামী লীগ পড়ে যাচ্ছে। বিএনপি নেতা ও পিনাকি ভট্টাচার্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সে বর্তমানে পালিয়ে গিয়ে প্যারিসে আশ্রয় নিয়েছে। মাহমুদুর রহমান এত বড় ছাত্রনেতা। টোকা দিলেই পড়ে যান। কাজেই বিষয়টি এতো সহজ না।

তিনি জানান, বাংলাদেশে এমন কোনো আন্দোলন হয়নি, যেটা সফল হয়েছে, কিন্তু তাতে আওয়ামী লীগ ছিল না। এমনটা ঘটেনি। আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশে কোনো আন্দোলন সফল হবে না। আওয়ামী লীগের বড় শক্তি হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে তাদের কর্মীরা অনেক বেশি ত্যাগী।

এ মুহূর্তে বিএনপির কোনো সফলতা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তারা জিকির তুলতে পারে, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। কিন্তু সফল আন্দোলন করতে পারে না।

বিএনপি নেতারা যেমন ত্যাগী না, তেমনি কর্মীদের সংঘবদ্ধ করার সক্ষমতাও কম বলে এই শিক্ষাবিদ মনে করেন। তিনি জানান, ২০১৩-২০১৪ সালের ঘটনাবলি মানুষ দেখেছেন। এ প্রজন্মকে তারা আতঙ্কিত করতে আগের মতো নতুন করে সংঘর্ষের পথ বেছে নিতে পারে। এতে শেষে গিয়ে তাদেরই ক্ষতি হয়। সাধারণ মানুষ কোনো সহিংসতা চায় না।

বিএনপি আগের মতোই সংঘাতে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন তিনি। এই অধ্যাপক জানান, বিএনপি মূলত জামায়াত-শিবিরকে দিয়ে সংঘাত করাবে। তলে তলে বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক এখনও আছে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, বিএনপির ১০ দফায় নতুন কিছু নেই। সব গতানুগতিক, একই জিনিস তারা সবসময় বলে আসছে। 

আর যেন সড়কে সমাবেশ না হয়

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মনে করেন, ভবিষ্যতে তারা যাতে আর কোনো সমাবেশ রাস্তায় না করেন। শুধু বিএনপি না; কোনো রাজনৈতিক দল যাতে রাস্তায় সমাবেশ না করে, তার একটা সূচনা হতে পারে গোলাপবাগে বিএনপির এ সমাবেশ। কারণ পল্টনে নিজেদের অফিসের সামনে তারা সমাবেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তারা শেষ মুহূর্তে গোলাপবাগ মাঠে নিয়ে গেছে।

এখান থেকে সবার শিক্ষা নেয়া উচিত বলে মনে করেন ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই অধ্যাপক। তার মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের উচিত না রাজপথে সমাবেশ করে জনগণের ভোগান্তি ডেকে আনা। এটিই আমার প্রত্যাশা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS