দরজায় কড়া নাড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন। তাই সরগরম ছাত্র রাজনীতির মাঠ। সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে নানা আলোচনায় সংগঠনটি।
দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর)। সম্মেলন উপলক্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
সম্মেলনের ঠিক শেষ মুহূর্তে এসে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের দেয়া হচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটির পদ। পদ পাওয়া নেতাকর্মীদের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তা জানাচ্ছেন। তাদের অভিনন্দনও জানাতে দেখা যায় অনেককে।
কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সম্পাদকের স্বাক্ষর সংবলিত একটি ব্ল্যাঙ্ক প্যাডের ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। যেখানে চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের তারিখ দেয়া ছিল। এরপরই সেটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ বিতরণ।
ছড়িয়ে পড়া ওই সাদা প্যাডে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেয়া হচ্ছে। ফলে অনেকেই সেই পদকে ভুয়া বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, ছড়িয়ে পড়া ওই প্যাডে সম্মেলনের আগমুহূর্তে কেউ কেউ বেশি সুবিধা নিতেই নিজেদের নাম প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তবে সংগঠনটির দাবি, সারা দেশে বিভিন্ন ইউনিটের পদবঞ্চিতদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্যপদে জায়গা দেয়া হচ্ছে।
তোড়জোড় করে কমিটিতে পদ দেয়া নিয়ে ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি সময় সংবাদকে বলেন, ‘মূল কমিটি ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটিতে এখন পদ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির নামে আমাদের আরও একটা কমিটি আছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের বাইরে। সেই কমিটিতে কিছুসংখ্যক ছাত্র মূল্যায়িত হয়েছেন। তবে অনেকেই সংগঠনকে বিতর্কিত করার জন্য নিজের মতো এডিট করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।’
ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সভাপতি-সেক্রেটারির এমন ঢালাও পদ বিতরণে আমরাও বিব্রত। এর আগেও ছাত্রলীগের শূন্য পদগুলোতে পোস্ট দেয়া হয়েছে, তবে এবারের মতো গণহারে আগে কখনও কোনো কমিটিতে পদ দেয়া হয়নি।’
পেছনের তারিখে পদ পাওয়ার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের ৩১ জুলাই কিছু কমিটি দেয়া হয়েছিল, তবে এখন কীসের পদ দেয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই।’
সভাপতি-সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সদস্যের সঙ্গে কথা না বলেই নিজেদের ক্ষমতাবলে এসব পদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ইনান বলেন, ‘এমন প্রেস রিলিজের পদ বিতরণ আমাদের জন্যও বিব্রতকর। এ বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। এ বিষয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক এবং দফতর সম্পাদক ভালো বলতে পারবেন।’
যদিও বর্ধিত কমিটিতে সদ্য পদ পাওয়া উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বিষয়টিকে সত্য বলেই দাবি করেন। তিনি সময় সংবাদকে জানান, যারা ছাত্রলীগকে ভালোবাসে এবং সংগঠনের জন্য পরিশ্রম করেছে, তাদের মূল্যয়নস্বরূপ এই পদ দেয়া হচ্ছে। এতে সবার মধ্যে মনোবল বৃদ্ধি পাবে।
ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘করোনাকালীন যখন একটা দুর্বিষহ সময় আমরা দেখেছি, সেই সময় ছাত্রলীগের প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি হয়েছে। সেখানে অনেক যোগ্য কর্মী থেকে মাত্র দুই সদস্যের কমিটি হয়েছে। অনেকেই পদবঞ্চিত হয়। সেই পদবঞ্চিত কর্মীদের মূল্যায়ন হিসেবেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগ্যতা অনুযায়ী মনোনীত করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply