ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঝাল মুড়ি বিক্রির জায়গা দখল নিয়ে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এছাড়াও এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শ পাড়া এলাকার যুবকদের সাথে গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার যুবকদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ।
সংঘর্ষে আহত জুনায়েদ মিয়া (৩০), সাব্বির আহমেদ (২২), লাল মিয়া (১৫), কামরুল হোসেন (৩৫), ইমন মিয়া (২১), জুয়েল মিয়া (৩০), হৃদয় মিয়া (১৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে কামরুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওমর ফারুক (১৮), সজীব মিয়া (১৯)সহ বাকিরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংঘর্ষে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাঁশগাড়ী গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. আতাউর (৩৪), একই এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. কবির হোসেন (৩৮), আদর্শ পাড়া এলাকার মৃত আউয়াল মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (১৮) ও তাঁর ভাই রকি মিয়া (২০)।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর বিকালে কালিকাপ্রসাদের আদর্শ পাড়া গ্রামের আরমান মিয়া ঝাল মুড়ি বিক্রি করতে যায় বাঁশগাড়ি বালুর মাঠে। এসময় গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার ফুসকা বিক্রেতা কবীর মিয়ার সাথে ফুসকা ও ঝাল মুড়ি বিক্রির জন্য জায়গা দখল নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই জনের দ্বন্দ্ব দুই গ্রামে ছড়িয়ে পরে। পরক্ষণেই দুই গ্রাম সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই দিন আরমান মিয়া (২৭)সহ ৫ জন আহত হোন। ঘটনার পর স্থানীয়দের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ৮ সেপ্টেম্বর বিকালে একই ঘটনার জের ধরে দুই গ্রাম ইট, পাটকেল, লাঠিসোঁটা ও টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থল থেকে দুই এলাকার ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আদর্শ পাড়া এলাকার ঝাল মুড়ি বিক্রেতা আরমান মিয়া বলেন, আমি বাঁশগাড়ি বালুর মাঠে ঝাল মুডি বিক্রি করতে গেলে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বাধা দেয়। এমনকি ওই এলাকার মানুষ ঝাল মুড়ি খেয়ে টাকা কম দিয়ে অত্যাচার করে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকেসহ আমাদের কয়েকজনকে মারধর করে। পরে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে বাঁশগাড়ি এলাকার ফুসকা বিক্রেতা কবীর মিয়া বলেন, বালুর মাঠে অনেক বড় জায়গা। আরমান আমাকে জায়গা দিতে বললে আমি তাকে নির্ধারিত জায়গা দিতে চাই। পরে সে এখানে না এসে অন্য জায়গায় গিয়ে ঝাল মুড়ি বিক্রি করে। সেখানে ঝাল মুড়ি বিক্রির টাকা কম নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। পরে সে একাধিক অভিযোগ নিয়ে আমাদের এলাকার মানুষদের সাথে তর্কে জড়ায়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ বিষয়ে ভৈরব সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি ঝাল মুড়ি বিক্রির জায়গা নিয়ে ফুটবল খেলার মাঠে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থল এলাকা থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।