ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের সঙ্গে ২৫ বছরের সম্পৃক্ততার মাইলফলক উদ্যাপন করে আজ পর্দা নামছে কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস – সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ আয়োজিত ২৫তম বাংলাদেশ সংস্করণের টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশন্স ২০২৬-এর। ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ), পূর্বাচল, ঢাকায়।
এক ছাদের নিচে অনুষ্ঠিত এবারের টেক্সটাইল সিরিজে ছিল ২৫তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো, ২৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্যাব্রিক শো ২০২৬ – সামার এডিশন এবং ৫৩তম ডাই + কেম বাংলাদেশ ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো। প্রদর্শনীগুলোতে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল মেশিনারি, অটোমেশন, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, ইয়ার্ন, ফেব্রিক, ট্রিমস, অ্যাকসেসরিজ, ডাইস্টাফ, কেমিক্যালস এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমাধান প্রদর্শিত হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রদর্শনীতে ৩৭টি দেশের প্রায় ১,৪৭৫টি কোম্পানি অংশ নিয়েছে এবং ২,২৪৫টির বেশি বুথ ও প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে ১৬ হাজারের বেশি ব্যবসায়িক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে।
সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম বলেন, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, উৎপাদনশীলতা, আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স এবং টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, টেক্সটাইল সিরিজ সময়ের সঙ্গে একটি সাধারণ প্রদর্শনী থেকে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক ব্যবসায়িক মিলনমেলা ও আন্তর্জাতিক বি-টু-বি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, সরবরাহকারী ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
চার দিনের প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি প্রস্তুতকারক, কারখানার মালিক, প্রধান নির্বাহী, উৎপাদন ব্যবস্থাপক, মার্চেন্ডাইজার, সোর্সিং কর্মকর্তা, বায়িং হাউস, প্রকৌশলী, ডিজাইনার, আমদানিকারক, পরিবেশক ও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা অংশ নেন। এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি মূল্যায়ন, পণ্য ও কাঁচামাল সংগ্রহ, নতুন সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
প্রদর্শনীর গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল ‘ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন জোন’। হল বি-তে স্থাপিত এ জোনে এআই ও অটোমেশন, ইআরপি, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, আইওটি, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০, ডেটা অ্যানালিটিকস, ক্লাউড, সাইবারসিকিউরিটি এবং টেকসই উৎপাদন ও ট্রেসেবিলিটি প্রযুক্তির বিভিন্ন সমাধান প্রদর্শন করা হয়।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি চার দিনজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় পাঁচটি আন্তর্জাতিক সেমিনার। এসব সেমিনারে উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন, বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ-ভারত টেক্সটাইল ভ্যালু চেইন, লজিস্টিকস ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন, টেক্সটাইল শিল্পে স্থাপত্যের ভূমিকা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে টেকসই উৎপাদন, ট্রেসেবিলিটি, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, দ্রুত লিড টাইম, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা-নির্ভর উৎপাদন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ বাস্তবতায় এবারের প্রদর্শনী বাংলাদেশের শিল্পখাতকে নতুন প্রযুক্তি, কাঁচামাল, জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
আয়োজকেরা জানান, টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশন্স সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী সিরিজের অংশ, যা বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, মরক্কো, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৫ বছরে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের সঙ্গে এ প্রদর্শনী সিরিজের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা সংশ্লিষ্ট শিল্পের আন্তর্জাতিক সংযোগ, প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।