এ.কে পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি: গতকাল (২৯আগষ্ট) শনিবার বিকেলে প্রেমিক সিয়ামের ফোনে সাড়া দিয়ে ভিকটিম কিশোরী চান্দিনা নিজ বাড়ি থেকে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর এলাকায় আসে। পরে সেখান থেকে কোটবাড়ি ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কিশোরীকে নিজ বাইকে করে কোটবাড়ি লালমাই পাহাড়ের সাধ্যেরমুড়া এলাকার নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যায় সিয়াম। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল সিয়ামের বন্ধু সাকিব, মারুফ সহ ৪জন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সিয়াম সহ তার বন্ধুরা একের পর এক রাতভর পাষবিক নির্যাতন চালায় ভুক্তভোগী কিশোরীর ওপর। এরপর ভোরে সাকিব বাইকে করে কিশোরীকে পাহাড় থেকে বের করে গাড়িতে তুলে দেয়ার জন্য কালির বাজার ইউপির রায়চো এলাকায় পৌছুলে গ্রামের কয়েজন তাদেরকে দেখে সন্দেহ হয়। এসময় তাদের আটকে জিজ্ঞেসবাদ শুরু করে স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয়দের কাছে সাহস করে সব ঘটনা খুলে বলে৷ এসময় বাইক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাইক সহ সাকিবকে আটক করে। পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় কোতোয়ালি থানাধীন নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশ।
ঘটনা ও ঘটনাস্থলের বিবরণ শুনে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ কে অবহিত করা হয়। সত্যতা স্বীকার করায় আটককৃত আসামী আদর্শ সদর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে সাকিব (২২) কে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কোতোয়ালি থানাধীন নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশের আইসি ও সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেনসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।
এবিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন জানান, ঘটনাস্থল সদর দক্ষিণ থানা এলাকার নির্জন পাহাড়ে। আটককৃত আসামীকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
ভিকটিমের পিতা উপস্থিত আছেন। তিনি থানায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রধান আসামী কালির বাজার ইউপির রায়চো গ্রামের সিয়াম সহ অভিযুক্ত অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।