“মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও একটি আন্তর্জাতিক মুসলিম ঐক্য দিবসের প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা “এক মুসলিম দাওয়াহ্ কল্যাণ সংস্থার উদ্দ্যোগে” আজ বিকেল ৩ ঘটিকায় ডিআরইউ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় । আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম, প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ন বক্তব্য রাখেন দৈনিক আমার দেশ এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুর রহমান, গেস্ট অব অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের মান্যবর রাষ্ট্রদুত জালিল রাহেমি জাহান আবাদি।
সংগঠনের সভাপতি মো: জালাল উদ্দিন ভূইয়া এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মুলপ্রবন্ধ পাঠ করেন, এক মুসলিম দাওয়াহ্ কল্যাণ সংস্থার, সেক্রেটারি, সৈয়দ এম.আর.জুলফিকার।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ধর্ম ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এর সাবেক মন্ত্রী, এম নাজিমুদ্দিন আল আজাদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মসউদ মান্নান, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় এর সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: সামসুল আলম, খেলাফত মজলিস এর মহাসচিব ড.আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম এর মহাসচিব, মুসা বিন ইজহার, গবেষক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, প্রফেসর ড. মো: মনিরুজ্জামান খন্দকার, গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব ও সংস্কৃতজন মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, ইসলামিক রিপাবলিকান ইরানের ফাস্ট কাউন্সিলর ইসরাফিল আমেরী সহ ইসলামী চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবিগণ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন বর্তমান বিশ্ব এক গভীর ও জটিল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন, অর্থনৈতিক মন্দা, প্রযুক্তিগত আধিপত্য এবং আদর্শিক সংঘাতের এই যুগে মুসলিম উম্মাহ সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান নিপীড়ন এবং ইসলামোফোবিয়ার (ইসলামভীতি) প্রসার আজ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভেদ তাদের কতটা দুর্বল করে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা, মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক মতপার্থক্য ভুলে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের সবচেয়ে অনিবার্য দাবি।
বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব, আরব-অনারব বিতর্ক এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক গ্রুপে বিভক্ত। এই অভ্যন্তরীণ অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী ও স্বার্থান্বেষী শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুটে নিচ্ছে এবং তাদের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। যখন একটি মুসলিম রাষ্ট্র অন্য একটি মুসলিম রাষ্ট্রের সংকটে এগিয়ে না এসে নীরব ভূমিকা পালন করে, তখন সামগ্রিকভাবে পুরো মুসলিম বিশ্বের শক্তি ক্ষুণ্ন হয়।
বক্তারা আরো বলেন, মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের মূল ভিত্তি অত্যন্ত সুদৃঢ়আর তা হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ । বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের সামনে দুটি পথ খোলা আছে হয় পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও বিভেদ টিকিয়ে রেখে পরাধীনতা ও লাঞ্ছনার শিকার হওয়া, না হয় ক্ষুদ্র স্বার্থ কোরবানি দিয়ে ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মাধ্যমে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ঐক্যেই শক্তি। মুসলিম বিশ্ব যদি আজ জাগ্রত হয়ে নিজেদের মধ্যকার প্রাচীরগুলো ভেঙে ফেলতে পারে, তবেই বিশ্বে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মুসলিম উম্মাহর গৌরব পুনরুদ্ধার সম্ভব।
মুল প্রবন্ধে সৈয়দ এম.আর.জুলফিকার বলেন, আমরা ‘মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ও একটি আন্তর্জাতিক মুসলিম ঐক্য দিবস’ নির্ধারন ও পালনের গুরুত্ব উপলব্ধি করছি। তিনি আরো বলেন মুসলিম ঐক্যের ভিত্তি মূলত কুরআন এবং সুন্নাহর শিক্ষা। উক্ত মুসলিম ঐক্যের ভিত্তি মূলত দাঁড়িয়ে আছে কিছু মৌলিক বিষয়ের উপর, তাওহীদ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর প্রতি আনুগত
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য শুধু মুসলিম বিশ্বের নয় বরং সমগ্র মানবজাতির শান্তি, ন্যায় বিচার, পারস্পরিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। মুসলিম বিশ্ব বহু জাতি, ভাষা,সংস্কৃতি ও বিভিন্ন মতবাদে বিভক্ত হলেও, আমাদের ঈমান, কুরআন, কিবলা, নবী রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং মৌলিক আকিদা এক। তাই আমাদের ঐক্যের ভিত্তিও এক। আমরা বিশ্বাস করি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ন্যায়, শান্তি, মানবিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সম্মানের পক্ষে একটি ইতিবাচক আহ্বান।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মো: জালাল উদ্দিন ভূইয়া বলেন সমকালীন বিশ্বে মুসলিম উম্মাহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী পারস্পরিক সহযোগিতা,ভ্রাতৃত্ব এবং ঐক্যের গুরুত্ব আরও বেশী অনুভূত হয়।
তিনি বলেন মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করতে একটি আন্তর্জাতিক ঐক্য দিবস প্রতি বছর পালনে করতে হবে এ ক্ষেত্রে ১৪ জুলাই হচ্ছে সার্বিক বিবেচনায় যৌক্তিক আমরা সারা বিশ্বকে সাথে নিয়ে দিবসটি পালন করতে চাই।