প্রতীক কুমার, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) উপজেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে দীর্ঘদিনের যানজট, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ নিরসনে অনুমোদিত উলিপুর বাইপাস সড়ক দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০ টায় উলিপুর শহরের বড় পুকুরপাড় মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উলিপুর মটর শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, উলিপুর উপজেলা শহর হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি কাজসহ নানা প্রয়োজনে শহরে আসেন। কিন্তু শহরের প্রধান সড়কগুলোতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
তারা বলেন, শহরের বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বড় পুকুরপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে সকাল ও বিকেলের দিকে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষও যানজটের কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন না।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, উলিপুর শহরের ভেতর দিয়ে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মালবাহী যানবাহন, অটোরিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। একই সড়কে ছোট-বড় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকায় প্রায়ই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
বক্তারা বলেন, বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা রাস্তা পারাপারের সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির সময় যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। শহরের যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মন্তব্য করেন।
তারা বলেন, অনুমোদিত উলিপুর বাইপাস সড়ক দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে শহরের ভেতর দিয়ে ভারী ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল কমে যাবে। এসব যানবাহন বাইপাস সড়ক ব্যবহার করলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজট অনেকাংশে কমবে। এতে সাধারণ মানুষ স্বস্তির সঙ্গে চলাচল করতে পারবেন এবং শহরের পরিবেশও স্বাভাবিক থাকবে।
জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, উলিপুর বাইপাস সড়ক কোনো দলীয় দাবি নয়; এটি উলিপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। জনস্বার্থে এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন হলে শুধু যানজট কমবে না, উলিপুরের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। গ্রামের কৃষকরা দ্রুত তাদের পণ্য শহরের বাজারে আনতে পারবেন। ব্যবসায়ীরা সহজে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, যানজটের কারণে প্রতিদিন তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। নির্ধারিত সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অনেক সময় যানজটের কারণে যাত্রীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন হলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং পরিবহন খাতও উপকৃত হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, যানজটের কারণে বাজার এলাকায় ক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হয়। দোকানের সামনে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় ব্যবসা পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটে। বাইপাস সড়ক হলে শহরের ভেতরে যানবাহনের চাপ কমে বাজার এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক হবে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াতের সময় যানজটের কারণে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। তারা নিরাপদ সড়ক ও যানজটমুক্ত উলিপুর শহর গড়তে দ্রুত বাইপাস সড়ক বাস্তবায়নের দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি বিলম্বিত হলে উলিপুরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাইপাস সড়ক বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা বলেন, “উলিপুরের যানজট নিরসন চাই”, “দ্রুত বাইপাস সড়ক চাই”, “জনদুর্ভোগ কমাতে বাইপাস বাস্তবায়ন চাই” এবং “উন্নয়নের স্বার্থে বাইপাস সড়ক চাই”।