মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (RAISE)’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষানবিশ ও তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জাফরপুরে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পাশের খোলা মাঠে এ সভার আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন (জেসিএফ), যশোর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রজেক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, লাইফ স্কিল অফিসার, রেইজ প্রোজেক্ট, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর মো. নাজমুল কবির। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, চুয়াডাঙ্গা জোনের জোনাল ম্যানেজার এম এম মিজানুর রহমান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের চুয়াডাঙ্গা এরিয়ার এরিয়া ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা ইউএমসি শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মো. নাছিম উদ্দিন এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোছা. জান্নাত আরা। *অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, চুয়াডাঙ্গা জোনের জোন হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মো. আশিক ইকবাল।
সভায় জানানো হয়, পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোগ উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ট্রেডভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ শেষে ৫ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সহজ শর্তে ৫১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান করা হবে।
তরুণ উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে, ব্যবসা পরিচালনায় ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, পারিবারিক মাসিক আয় ২০ হাজার টাকার মধ্যে হতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি থেকে এইচএসসি বা সমমান হতে হবে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় *শিক্ষানবিশি কর্মসূচির আওতায় ৬ মাসব্যাপী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ ও প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান করা,নতুন উদ্যোগ শুরু করার জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং ছয় মাসে মোট ২১ হাজার টাকা বৃত্তি ভাতা প্রদান করা হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে পঞ্চম শ্রেণি এবং সর্বোচ্চ এইচএসসি হতে হবে। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গুরুর তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
রেইজ প্রকল্পের আওতায় ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, প্লাম্বিং, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, আইটি সাপোর্ট সার্ভিস, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, মোটরসাইকেল সার্ভিসিং, ড্রাইভিং অ্যান্ড অটো মেকানিকস, বিউটি কেয়ার, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন, ফ্যাশন গার্মেন্টস, কেয়ারগিভিং, কার্পেন্ট্রি, বেকিং অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রিপারেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
সভায় স্থানীয় তরুণ-তরুণী, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এসময় চুয়াডাঙ্গার প্রায় দুই শতাধিক পুরুষ ও নারী এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।