
মামুন মোল্যা, নড়াইল প্রতিনিধি: কালিয়ার বাবরা হাচলা ইউনিয়নে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ভুয়া পশু চিকিৎসকের সংখ্যা। গ্রাম-গঞ্জে সরকারি সেবা অপ্রতুলতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির প্রতারক ব্যক্তি নিজেদের পশু চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ খামারি ও বিভিন্ন শ্রেণির পশু পালনকারীদের প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছেন।
তারা কেউ ”এআই” প্রশিক্ষন আবার কেউ যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘ডাক্তার’ সেজে পশু চিকিৎসা দিচ্ছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন খামারি, ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণীর পশু পালনকারী ; পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এমনকি পরোক্ষভাবে মানুষও।
সরজমিন গিয়ে জানা যায় , বাবরা হাচলা উইনিয়নে প্রায় ১০ জন নামধারী পশু চিকিৎসক রয়েছে। গৌরব ঘোষ,টিটব ঘোষ, তরুন ঘোষ, হরে কৃষ্ণ বিশ্বাস,বিধান ঘোষ, মহিময় ঘোষ, মাধব বিশ্বাস, কৃষ্ণ ঘোষ, অভীজিৎ ঘোষ,শুভাম ঘোষ ।
এদের অধিকাংশই নামসর্বস্ব কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্থা থেকে তিন/ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে ডাক্তার বনে গেছেন। ভুয়া চিকিৎসকদের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় আসল ও নকল চিনতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন প্রান্তিক খামারি ও ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণির পশু পালনকারী।
গবাদিপশুর সামান্য কিংবা জটিল সমস্যায় এদের শরণাপন্ন হলে তারা না বুঝেই অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করে থাকেন। রোগ নির্ণয় না করেই চিকিৎসা দেওয়ার কারণে কখনও কখনও ছোটখাটো রোগ জটিল আকার ধারণ করে। এরপর তারা উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেন এমকি সেই চিকিৎসায় পশুর মৃত্যুর ঘটনা ও ঘটে। গৌরব ঘোষের ১টি ও টিটব ঘোষের ১ টি করে মোট ২টি পশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। তারা নামমাত্র অর্থের মাধ্যমে রফাদফা করে। কৃত্রিম বীর্যের জন্য এরা অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিয়োগ উঠে আসে।
একাধিক খামারি ও বিভিন্ন শ্রেণির পশুপালনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,লাইসেন্স ছাড়া প্রতিটি বাজারে দু-একজন পশু চিকিৎসকের ওষুধের দোকান আছে। তারা ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশু চিকিৎসা করেন। রোগ নির্ণয় না করেই চিকিৎসা দেওয়ায় সামান্য কিছু রোগ সারলেও অধিকাংশই জটিল হয়ে যায়। মাঝে মাঝে ভুল চিকিৎসায় পশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। তখন তারা নানাভাবে শান্তনা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন।
প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব ভুয়া চিকিৎসকের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি—খামারি ও বিভিন্ন শ্রেণি পশুপালনকারীদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় যত দ্রুত সম্ভব এসব ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। হাট-বাজারের এসব ভুয়া চিকিৎসকদের ওষুধের দোকানেও অভিযান চালানোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ সকল ভুয়া পশু চিকিৎসক বলেন, গরু-ছাগলের চিকিৎসা দেই তবে জটিল কিছু দেখলে সিনিয়রদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরামর্শ নিই।”
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল মোমিন বলেন, যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে ডাক্তারি করতে পারবে না। এটা সম্পূর্ণ অপরাধ। এরক কেউ যদি করে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। ”এআই” প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কৃত্রিম প্রজনন কর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসা করতে পরবে কিন্তু কেউ যদি প্রাথমিক চিকিৎসা বাদে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা অথবা এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করে নিদিষ্ট অভিয়োগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ও আইনগত ব্যবস্থা নিবো। তারা আমাদের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেয় এ কথা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply