
[ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬] রান্নাঘর পরিবারের সবচেয়ে ব্যস্ততম জায়গা। বিশেষ করে, খাবার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যাদের ওপর থাকে, তাদেরকে রান্নার উপকরণ যাচাই করে, কী রান্না হবে তা ঠিক করে, সবার সময়সূচি ও রুচির সঙ্গে মিলিয়ে খাবার প্রস্তুত করতে হয়। আবার সবকিছুর মাঝে খেয়াল রাখতে হয় খাবারের স্বাদ যেন অটুট থাকে। একই রুটিন প্রতিদিন চলতে থাকায় স্বস্তিতে থাকার সুযোগ খুব কমই মেলে।
বর্তমানে এই চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ এখন ৯টা-৫টা চাকরিতে যুক্ত। দিন শেষে ঘরের পরিণত বয়সের সবাই ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন। তখন না থাকে শারীরিক শক্তি, না থাকে কী রান্না হবে তা পরিকল্পনা করার সময়। তবুও একজন গৃহকর্তা বা গৃহিণীর কাছ থেকে প্রত্যাশা ঠিকই রয়ে যায়। ফলে, রান্না অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত, তাড়াহুড়ো আর মানসিক চাপের একটি ক্লান্তিকর কাজ হয়ে দাঁড়ায়।
একই কাজ প্রতিদিন করতে করতে অনেকের মনেই এই কল্পনা উঁকি দেয় যে, যদি এমন কেউ থাকত যে প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে থেকে এই বিষয়গুলো ঠিক করে দিত! মাথার ওপর থেকে প্রতিদিনের এই মানসিক চাপ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলত! নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী কী করতে হবে তা মনে করিয়ে দেয়া কিংবা কোন খাবার কেন ভালো, তার ব্যাখ্যাও দিত। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে এই ভূমিকা প্রায়ই রোবটদের দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে রোবট ব্যয়বহুল, জটিল এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে ব্যবহার করা অনেকটাই অসম্ভব।
তবে, এর সমাধান হতে পারে আধুনিক প্রযুক্তি। ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি আমাদের জীবন অনেক সহজ করেছে। রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সংযোজন হতে পারে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ। আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে রান্নাঘরের দৈনন্দিন অনুষঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন হচ্ছে। তবে, এআই মানুষের বিকল্প নয় বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার একটি টুল।
এআই -এর সহযোগিতা আমাদের সিদ্ধান্তগুলোকে আরও সহজ ও নিখুঁত করে তুলতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি এআই-চালিত ওভেন খাবারের ধরন অনুযায়ী কিছু রান্না ঠিক কতটুকু সময় নিয়ে হবে তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে পারে। যদি কেউ কেক বেক করার সঠিক সময় না-ও জানেন তাহলেও সমস্যা নেই। ওভেনই রান্নার ধরণ অনুযায়ী তাপমাত্রা ও সময় সামঞ্জস্য করে নেয়। ফলে, কেক হয় একদম ঠিকঠাক। পুড়ে যাওয়া বা ভেতরে কাঁচা থাকার কোনো ঝুঁকিই থাকে না।
তবে, এআই প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত রেফ্রিজারেটরের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। ধরুন, বৃহস্পতিবার রাতে আপনি দেরিতে বাড়ি ফিরেছেন। পরদিন সকালে ক্লান্ত শরীরে উঠে হঠাৎ মনে পড়ল দুপুরে কয়েকজন মেহমান আসার কথা। ফ্রিজ খুলে দেখলেন নানা ধরনের সবজি, মাংস, মাছসহ অনেক কিছুই আছে। কিন্তু কী রান্না করবেন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বদলে এত বিকল্প দেখে আপনি আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন, মানসিকভাবেও চাপ অনুভব করলেন।
এখন ভাবুন তো, যদি ফ্রিজ খুলতেই ফ্রিজ নিজেই আপনার পছন্দ অনুযায়ী ফ্রিজে থাকা উপকরণের ভিত্তিতে কী রান্না করা যায় তা বলে দিত! শুধু রেসিপি নয়, ধাপে ধাপে রান্নার নির্দেশনাও দিত! এতে রান্নার পরিকল্পনা করা আর ভয়ের কারণ না হয়ে সহজ হয়ে উঠত।
মজার বিষয় হল, এসব ধারণা এখন আর কেবল কল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে প্রযুক্তি-বিষয়ক শো কনজিউমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস) ২০২৬ -এ স্যামসাং ভবিষ্যতের রান্নাঘরে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে তা নিয়ে একটি প্রদর্শনী করেছে। এআই-ভিত্তিক জীবন যাপনের দিকে যে বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, এটি তারই বার্তা বহন করে। এমন উন্নত ফিচার নিয়ে বিশ্বব্যাপী এখনও কাজ চলছে। তবে, স্যামসাং ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে ‘বিস্পোক এআই’ ধারণা চালু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত সংস্করণ নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে।
স্বপ্নের রান্নাঘর মানে মানুষের জায়গা এআইকে দেওয়া নয়; বরং মানুষকে তার কাজে সহায়তা করা। আর সেই স্বপ্নটিকেই নিঃশব্দে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply