
হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত ও বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত মোমবাতি প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রিমহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে—বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট উক্ত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি সকালে প্রতিবাদি বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম অনুযায়ী দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামার ৬ নং অনুচ্ছেদের “আয়ের উৎস” শিরোনামের ৪ নং ক্রমিকে শেয়ার/বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত/সুদ—এই পাঁচটি খাত একত্রে উল্লেখ করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উক্ত ফরমে আলাদা আলাদা খাত নির্বাচন বা পৃথকভাবে চিহ্নিত করার কোনো সুযোগ নেই। অতএব, উল্লিখিত খাতসমূহের যেকোনো একটি বা একাধিক উৎস থেকে আয় থাকলে নির্ধারিত ঘরে সম্মিলিত মোট অংক উল্লেখ করাই আইনসম্মত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া।
আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী উক্ত ঘরে ২২,৮৯২ টাকা আয় প্রদর্শন করেছেন, যা শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র কিংবা ব্যাংক আমানত থেকে প্রাপ্ত আয়ও হতে পারে। কিন্তু কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই, নির্ভরযোগ্য দলিল বা আইনসম্মত অনুসন্ধান ব্যতিরেকে শুধুমাত্র “সুদ” শব্দটিকে আলাদা করে উপস্থাপন করে এটিকে সুদের আয় হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণরূপে অনুমাননির্ভর, ভিত্তিহীন এবং বিদ্বেষপ্রসূত অপপ্রচার—যা প্রচলিত আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আইনগতভাবে আরও উল্লেখযোগ্য যে, যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের অ্যাকাউন্টে আমানত বিদ্যমান থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম অনুযায়ী কোথাও “মুনাফা”, কোথাও “ইন্টারেস্ট” অথবা কোথাও “সুদ” নামে একটি নির্দিষ্ট অংক যুক্ত হয়, যা একটি সাধারণ ও প্রচলিত আর্থিক বাস্তবতা। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে রঙিন ব্যাখ্যার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ও ব্যক্তিকে হেয় করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা আইনত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি তথ্য সন্ত্রাসের শামিল।
আরও লক্ষণীয় যে, একই নির্বাচনী হলফনামার একই কলামে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু প্রার্থীর আয়ের তথ্য বিদ্যমান রয়েছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে অন্য একটি ইসলামী দলের প্রার্থী কর্তৃক উক্ত কলামে ৬৩,৪৭১ টাকা আয় প্রদর্শিত হলেও তাঁর ক্ষেত্রে কোনো সংবাদমাধ্যম কর্তৃক প্রশ্নবিদ্ধ, বিভ্রান্তিকর বা আক্রমণাত্মক উপস্থাপনা করা হয়নি। পক্ষান্তরে, কেবলমাত্র আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ক্ষেত্রেই শব্দের অপব্যবহার ও তথ্যের বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে একটি বিশেষ বর্ণনা নির্মাণের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং এর পেছনে কারা, কী উদ্দেশ্যে ও কোন স্বার্থে সক্রিয়—তা জাতি জানতে চায়।
আমরা আইনগতভাবে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, নির্বাচনী হলফনামায় কোনো তথ্য গোপন, অসম্পূর্ণ বা বাদ পড়লে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। সুতরাং আইন মেনে নির্ধারিত ঘরে আয় উল্লেখ করাকে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রসূত, বিভ্রান্তিকর এবং আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
বর্তমানে উক্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে কিছু সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সংবাদপত্র পরিষদ আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দণ্ডবিধির মানহানি সংক্রান্ত বিধান এবং সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে সতর্ক করে দিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে চায়—সত্য গোপন করে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা, শব্দ ও তথ্য সন্ত্রাস এবং ব্যক্তিগত চরিত্রহনন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply