
দীর্ঘ ৩৫ বছর বিএনপির রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ সম্প্রীক্ত। ত্রয়দশ জাতীয় নির্বাচন সামনে। এখন আর দলের আঞ্চলিক নেতা কর্মীরা তাকে আমলে আনছে না। দলের কোন কাজে তাকে ডাকা হচ্ছে না। স্পষ্ট অবহেলা করা হচ্ছে। মূল্যায়ন করতে আঞ্চলিক নেতাদের বেশ খানিকটা অনীহা। আর তাই মন কষ্টে ভুগছেন তৃণমূলের বিএনপি, ক্ষুদে মানুষের নেতা হাটমান্দারতলার সিরাজুল ইসলাম (৭৬)।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতিতে হাতে খড়ি। সেই থেকে আজ পর্যন্ত রয়েছেন শহীদ জিয়ার বিএনপিতে। অন্তত চারবার বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশে থাকার সৌভাগ্য হয়েছে তার। বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সাথেও কুষ্টিয়ায় তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
সাবেক যশোর বর্তমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ১০ নং নাটিমা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মান্দারতলা উত্তর বা বাজারপাড়ায় তার জন্ম। সেটি ১৯৫০ সালের কথা। পিতা মৃত জনাব আলী মল্লিক, মা হায়তুন্নেছা। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন ঠিকই তবে সনদ পত্র নেননি বিধায় বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাননি। দেখেছেন ১৯৯০ সালের গণ আন্দোলন। ফ্যাসিস্ট আমলে মিথ্যা নাশকতা মামলায় আসামি হয়ে ছিলেন বাড়ি ছাড়া।
১৯৭৬ সালে বিয়ে করেন স্ত্রী মৃত সবেদা খাতুনকে। এখন তিন ছেলে আর দুই মেয়ে সংসারে। ছোট মেয়েটি নবম শ্রেণীতে পড়ে। এ বাদে অন্যরা বিবাহিত। সংসার করেছেন আর সেই সাথে রাজনীতি।
প্রয়াত এমপি শহিদুল ইসলাম মাস্টার সিরাজুল ইসলামের রাজনৈতিক গুরু। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার সাথেই বিএনপির রাজনীতি ও রাজপথে ছিলেন।
ক্যান্সার চিকিৎসায় দুই বার তাকে অনুদান অর্থ দিয়েছেন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রথম ও দ্বিতীয় অনুদান দুটি ২০০৫ সালে তিনি পান। আরেকটি অনুদান পাওয়ার আগেই বিএনপি ক্ষমতা ছাড়া হয় তাই সেটি আর পাওয়া হয়নি। সেটিও হয়েছিল ঐএমপি শহিদুল মাস্টারের কল্যাণে।
এমপি শহিদুল মাস্টার এখন জীবিত নেই। তার ছেলে মেহেদী হাসান রনির সাথে এখনো রাজনীতি করছেন। তবে হতাশা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। আগের মত আর দল তাকে মূল্যায়ন করছে না। নতুনরা তাকে যেন মানতে চায় না।
সাবেক কৃষক দলের ইউনিয়ন সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৭ বছর ১৯৯২ থেকে যা শুরু। থানা সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালের পর প্রায় রাতে পুলিশ তার বাড়ি তল্লাশি করতো। ভয়ে তিনি বাড়ি ঘুমাতে পারেননি বহু রাত। অপরাধ বিএনপির রাজনীতি করা।
সিরাজুল ইসলাম বলেন বি এনপিতে হাতে খড়ি ১৯৯১ সালে। মামলা হয় ২০১৮ সালে। নাশকতা মামলা হয়। এখন তার অনুভূতি হচ্ছে যেন তিনি দলের এখন কেউ না। কেউ তাকে ডাকেনা। খোঁজ নেয় না। ২০ টাকা স্লিপ নেওয়া যদিও রয়েছে সদস্য হওয়ার জন্য। কুষ্টিয়া কনফারেন্স তারেক জিয়ার সাথে মিটিং করেছি।
কোটচাঁদপুর, মহেশ পুর, যশোর, খুলনা বিভাগীয় কর্ম সূচিতে বারবার অংশ নিয়েছি।
এখন তার প্রথম চাওয়া ২০২৬ সালে বিএনপির সরকার গঠন। আর দ্বিতীয় চাওয়া যেন তিনি ও তার মত কর্মীরা দলের কাছে সারা জীবন মূল্যায়ন হন। কেননা যে হতাশা তার উপর ভর করেছে তাতে সাধারণ অনেক বিএনপির কর্মী এখন দল বিমুখ হয়ে পড়েছেন।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply