
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুসলিম ঐক্য জোট-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ”প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে গণতন্ত্রে আঘাত” শীর্ষক এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মুসলিম ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির সভাপতি সৈয়দ মোখলেসুর রহমান। সভায় বক্তারা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা নেতৃবৃন্দ বলেন বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে সহনশীলতার অভাব প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এক দল অন্য দলকে নির্মূল করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা মূলত আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল ‘গণতন্ত্র’কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যখনই রাজনীতিতে প্রতিহিংসা প্রাধান্য পায়, তখন সাধারণ মানুষের অধিকার এবং বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হয়।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বিরোধী মতকে দমন করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। এটি কেবল রাজনৈতিক অবক্ষয় নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বড় হুমকি। তারা বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ না হলে দেশে টেকসই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মোখলেসুর রহমান বলেন, “গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে আমাদের ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। প্রতিহিংসা নয়, বরং আলোচনার টেবিলই হতে পারে সকল সংকটের সমাধান।” তিনি দেশের সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে গণতন্ত্র রক্ষায় একই মঞ্চে আসার আহ্বান জানান।
জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দিন মজুমদার বলেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং মৌলিক অধিকার আজ হুমকির মুখে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার ফলে সাধারণ মানুষ বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ওপর আস্থা হারাচ্ছে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন এবং সংহতি প্রকাশ করেন জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দিন মজুমদার, গ্রীন পার্টি বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান রাজু আহম্মদ খান, বাংলাদেশ জনমত পার্টির আহ্বায়ক সুলতান জিসানউদ্দিন প্রধান, বাংলাদেশ মুসল্লি কমিটির চেয়ারম্যান আমির আলী হাওলাদার, ইসলামী ঐক্য জোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমিন, গ্রীন পার্টি বাংলাদেশ এর উপদেষ্টা এম এম মাসুদ, বিশিষ্ট নারী নেত্রী এলিজা রহমান, গ্রীন পার্টি বাংলাদেশ আন্তঃশাখা সমন্বয়ক মো: ইয়ামিন খান সহ আরও অনেক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে নেতৃবৃন্দ একমত হন যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ উপহার দিতে হলে এখনই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তারা একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply