শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
লাইভে বিয়ে–ডিভোর্স নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন প্রভা বিদ্রোহী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক: সিডিএফ বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় যুগান্তকারী অধ্যাদেশ জারি অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ভোটাররা বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পারবেন: ফাওজুল কবির মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাধ্যমে ওরিয়ন গ্রুপকে অবৈধ সুবিধা, ৫০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা জানুয়ারির প্রথম ৭ দিনেই এলো ৯০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স জ্বালানি, ডিজিটাল দক্ষতা ও নগর উন্নয়নে বাংলাদেশকে ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দিচ্ছে জার্মানি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ১২১ দেশে ৭ লাখ ৬৭ হাজার প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো সম্পন্ন

ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক: সিডিএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ Time View

ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংগঠনগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক-ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)। সংগঠনটি বলছে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ক্ষুদ্রঋণবান্ধব নয় কিংবা এটি মুনাফাভিত্তিক উদ্যোগ- এ ধরনের আশঙ্কার সঙ্গে অধ্যাদেশের মূল দর্শনের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বরং এই আইন পাস হলে ক্ষুদ্রঋণ খাতের কাঠামো আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে।

সিডিএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে-ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।

সিডিএফের মতে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে—এ বিষয়টি অধ্যাদেশের খসড়াতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। খসড়ার ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংকটি সামাজিক ব্যবসার নীতিতে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের অতিরিক্ত কোনো লভ্যাংশ নিতে পারবেন না। ফলে এটিকে মুনাফাভিত্তিক বা ব্যক্তিমালিকানার উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো-ব্যাংক হলে ক্ষুদ্রঋণের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে কি না। এ বিষয়ে সিডিএফ বলছে, প্রস্তাবিত ব্যাংকের লক্ষ্য মুনাফা নয়; বরং দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা। ব্যাংকটির কার্যক্রম হবে বহুমাত্রিক- এর আওতায় ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ইনস্যুরেন্স সেবা, রেমিট্যান্স, দেশি-বিদেশি অনুদান ও ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি কৃষি খাতেও ঋণের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।

আরেকটি বড় বিতর্কের জায়গা হলো- এনজিও ও ব্যাংকের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ। এ প্রসঙ্গে সিডিএফের বক্তব্য, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক আইন কার্যকর হলেও কোনো এনজিওকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকে রূপান্তর করা হবে না। কোনো সংস্থা চাইলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের কার্যক্রম ব্যাংকের আওতায় আনতে পারবে। তবে যে অংশ ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে, তা সম্পূর্ণ আলাদা কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে এবং তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে। অন্যদিকে এনজিও অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) অধীনে। ফলে একই কাঠামোয় দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই ওঠে না।

এসেট বা সম্পদ স্থানান্তর নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে বলে মনে করছে সিডিএফ। সংগঠনটির মতে, কোনো এনজিওর কেবল যে অংশটুকু ব্যাংকে রূপান্তর হবে, সেই অংশের দায়-দেনাই স্থানান্তরিত হবে। সব সম্পদ বা দায় একসঙ্গে ব্যাংকে চলে যাবে-এমনটি নয়।

প্রস্তাবিত ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সিডিএফ। তাদের ভাষ্য, ব্যাংকের মোট শেয়ারের ৬০ শতাংশ থাকবে দরিদ্র সদস্যদের হাতে। ফলে অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডার হবেন তারাই, যারা ক্ষুদ্রঋণের মূল লক্ষ্যগোষ্ঠী। এতে দরিদ্র সদস্যদের ক্ষমতায়ন হবে এবং ব্যাংকের সম্ভাব্য উদ্বৃত্তের সুফলও তারা সরাসরি পাবে।

বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোর উদাহরণ টেনে সিডিএফ বলছে, সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারই দরিদ্র সদস্যদের হাতে রয়েছে।

সিডিএফ আরও বলছে, প্রস্তাবিত ব্যাংকে বিনিয়োগকারীরা কেবল তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন। অতিরিক্ত মুনাফা বা ডিভিডেন্ট নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ব্যক্তি মুনাফার আশায় এ ধরনের ব্যাংকে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন না। ফলে অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ শেয়ারের বিনিয়োগ মূলত বিভিন্ন এনজিওর উদ্বৃত্ত তহবিল থেকেই আসবে। এতে ব্যাংকের যে কোনো উদ্বৃত্ত শেষ পর্যন্ত আবার দরিদ্র সদস্যদের কল্যাণেই ব্যবহৃত হবে।

সিডিএফের দাবি, এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকের আইন থাকলেও সেগুলো মূলত মুনাফাভিত্তিক। সে তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক একটি ব্যতিক্রমী ও উন্নত ধারণা নিয়ে আসছে, যেখানে সামাজিক উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য। তাদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে তা শুধু দেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতেই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS