
পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাওয়া ক্লাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. আমিনুল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাজী মুজিবুর রহমান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মো. মোস্তফা আল ইহযায। এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) সরওয়ার হোসাইন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজালাল, কর্নেল শাহাদাত হোসেন, কর্নেল (অব.) এস কে আকরাম, মেজর (অব.) আমিন আফসারী, কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, মেজর হারুনুর রশিদ, মেজর মাসউদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আফাজুল হক এবং রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী প্রমুখ। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আগত বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক অতিথি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আবু তাহের। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও পর্যটন খাতকে নিরাপদ ও টেকসই করতে সকল পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী মুজিবুর রহমান বলেন, পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা চেষ্টা করছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে বসে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা তাদের কে সহযোগিতা করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ইদানীং আমেরিকান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। তিনি এ সময় বলেন, আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম কে রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনে একাত্তরের যুদ্ধের মতোই আরেকটি যুদ্ধ করতে চাই। শাহাদাতের তামান্নার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
এ সময় মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর আরো বলেন, মালয়েশিয়া সরকার তাদের দেশে পার্বত্য এলাকায় অনেক কৃত্রিম লেক নির্মাণ করে পর্যটন বান্ধব এলাকায় রূপান্তরিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য কাপ্তাই লেক কে নিরাপদ পর্যটন বান্ধব বানানো খুবই প্রয়োজন।
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বলেন, সম্প্রতি সময়ে ফুরমোন পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকরা প্রায়ই ইউপিডিএফের অস্ত্রধারী সদস্যদের দ্বারা হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা পর্যটকদের তল্লাশির নামে মোবাইল ফোন ছিনতাই, বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং নারী পর্যটকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। পর্যটকগণ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ও মারধর করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের কাছে পাহাড়ি এলাকা ধীরে ধীরে আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হচ্ছে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি বজায় রাখা এবং পর্যটন শিল্প রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দাবি জানান।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply