
দৈনন্দিন জীবনে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পুষ্টির যোগান। সাধারণত ব্রয়লার মাংস প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করলেও তাতে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে না। অ্যান্টিবায়োটিক বা কেমিক্যালমুক্ত উন্নত পুষ্টিগুণসম্পন্ন ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংসে উচ্চমাত্রার ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ও উপকারী। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক উন্নত পুষ্টিগুণসম্পন্ন ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস ‘উৎপাদনের লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রচারমূলক কর্মশালা আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল মিট-এর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বিএইউ-আরআইসি)-এর ‘এজ’ সাব-প্রজেক্টের অধীনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনের জন্য খাদ্যে নিউট্রাসিউটিক্যাল ফিড অ্যাডিটিভের ব্যবহার’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে পোল্ট্রি খাদ্যে পরিবর্তন এনে সাধারণ মুরগির মাংসকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ করা। আমাদের দেশের পুষ্টি চাহিদায় মাছের পাশাপাশি ব্রয়লার মাংস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর এক্ষেত্রে বিএইউ-আরআইসি-এর বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে মাংসেও উচ্চমাত্রার ফ্যাটি অ্যাসিড স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে অনন্য মাত্রা যোগ করবে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোসা. ইয়াসমিন আক্তার । প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বেঙ্গল মিট-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম আসিফ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেঙ্গল মিট-এর কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার এবং এই প্রকল্পের প্রধান গবেষক কৃষিবিদ মোঃ ইমরুল কায়েস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘বিএইউ-আরআইসি’-এর চিফ কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আউয়াল।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতন গ্রাহকদের কাছে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাধারণ ব্রয়লার মুরগির খাদ্যে মাছের তেল, তিসি বা চিয়াসিডের মতো পুষ্টিকর উপাদান যোগ করার মাধ্যমে উৎপাদিত এই ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাংস ‘কেবল পুষ্টির অভাবই পূরণ করবে না, বরং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্যোগের ফলে খামারিদের আয় বাড়বে, দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বেঙ্গল মিট-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাজারে প্রিমিয়াম মানের স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, পুষ্টিবিদ, পোল্ট্রি শিল্প উদ্যোক্তা এবং সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply