বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
e-VAT System হতে সরাসরি করদাতার ব্যাংক এ্যকাউন্টে অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ড চালু করলো এনবিআর নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিতকরণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে ১০ সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ বাংলাদেশে রিস্ক বেইজড সুপারভিশন (RBS) ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক ও ভবিষ্যতদর্শী সুপারভিশনের নতুন অধ্যায় সূচিত যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকাণ্ড: ডিবি তফসিলি সব ব্যাংকে নারীবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম নিশ্চিতের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বরেন্দ্রভূমির কণ্ঠ; শামীমা নাইস দেশের প্রথম ‘সনি হোম থিয়েটার এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার’ চালু করলো সনি-স্মার্ট ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক দলের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা আলোচনা সভা

এনবিএফআই খাতে বড় ধাক্কা: ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০১ Time View

ব্যাংক খাতে সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) দিকে কঠোর নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর (নন-ভায়েবল) ঘোষণা করা হবে। এরপর ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও নেট অ্যাসেট ভ্যালু নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের প্রকৃত অবস্থান কতটা নেতিবাচক—তা অডিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অডিট প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, অনিয়ম ও দায়ভার সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তদারকির জন্য ‘ব্যাংকিং রেজুলেশন ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যত দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে এ বিভাগের কাজ। পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে; প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবসান নয়; বরং আর্থিক খাতে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলার নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শেয়ার শূন্য হওয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য কঠিন হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি এই খাতের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বহু এনবিএফআই সংকটে পড়ে। এর বেশির ভাগই বর্তমানে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান প্রশান্ত কুমার হালদারের নিয়ন্ত্রণাধীন। শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের একটি প্রতিষ্ঠানও তালিকায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে নয়টি এনবিএফআইয়ের নিবন্ধন সনদ বা লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, এফএএস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও প্রিমিয়ার লিজিং। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করতে সরকারকে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অর্থ দিয়ে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের এবং বাকি ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। ব্যক্তি আমানতকারীদের সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা আটকে আছে পিপলস লিজিংয়ে। এছাড়া আভিভা ফাইন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফাইন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে ২০টি এনবিএফআই বন্ধের উদ্যোগ নিলেও ১১টি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের পরিকল্পনা জমা দেয়। সেসব পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আপাতত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS