প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। উত্তরবঙ্গের বগুড়া, রংপুর ও চিরিরবন্দরে অবস্থিত চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে এ সক্ষমতা তৈরি করেছে কোম্পানিটি। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জার্মান ইঞ্জিন এবং কো-জেনারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ ইসলাম।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এ কোম্পানিটির রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে কোম্পানির বিস্তারিত তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কোম্পানিটি যাত্রা শুরুর দুই বছরের মধ্যেই চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্রের নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করতে নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির আওতায় কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হচ্ছে, যা কোম্পানিটির আয় ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জার্মান প্রযুক্তির ইঞ্জিন ও টার্বোচার্জিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কো-জেনারেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঞ্জিন থেকে উৎপন্ন তাপ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক দক্ষতা প্রায় ৪৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তিনি আরও জনান, কো-জেনারেশন ব্যবস্থায় ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ ব্যবহার করে স্টিম টারবাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এ প্রযুক্তির ফলে কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২৪ থেকে সাড়ে ২৪ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ছাড়াই উৎপাদন বাড়ানো এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বগুড়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বড় ইঞ্জিন পরিবহন ও স্থাপন ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি ইঞ্জিনের ওজন প্রায় ৩৮০ টন হয়ায় নদীপথের সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও সেগুলো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর জন্য বিশেষ লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হয়। এ জন্য ইঞ্জিনগুলোকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে পরিবহন করা হয়। এ কাজে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যবস্থার সমন্বয়ের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সেতু নির্মাণেরও প্রয়োজন হয়েছিল।
তিনি বলেন, ফ্রান্স থেকে প্রতিটি ইঞ্জিনের প্রায় ১০ হাজার যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে এনে সেগুলো সংযোজন ও চালু করা ছিল অত্যন্ত জটিল কাজ। পুরো প্রক্রিয়ায় সময়মতো যন্ত্রাংশ সরবরাহ, পরিবহন ও সংযোজন নিশ্চিত করতে হয়েছে।কনফিডেন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সহায়তায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
খালেদ ইসলাম বলেন, ইঞ্জিনগুলো শুরু থেকে সংযোজন করার অভিজ্ঞতা কোম্পানির প্রকৌশল দলকে প্রতিটি যন্ত্রাংশের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে নিজস্ব দক্ষতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের প্রকল্প বাস্তবায়নেও কাজে লাগবে।
উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কোম্পানিটি নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাঁর ভাষ্য অনযায়ী, শুধু প্রচলিত পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, চট্টগ্রামে পরিবহন, সেখান থেকে ট্যাংকারের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া এবং পরে সড়কপথে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৪০ টন ধারণক্ষমতার জ্বালানিবাহী লরি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ কোম্পানিটির জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করছে।
খালেদ ইসলাম আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রকৌশল, জ্বালানি পরিবহন ও কেন্দ্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জনই কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির অন্যতম শক্তি। এসব সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতে কোম্পানিটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ, এলএনজি অবকাঠামো, কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্যাটারিভিত্তিক জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে গ্রুপটি।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল প্রায় ৩২ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল প্রায় ১৯৩ টাকা। কোম্পানির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ইপিএস প্রায় ৬৩ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৪১৩ টাকায় উন্নীত হতে পারে। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
এ সময় কনফিডেন্স পাওয়ারের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অবদান রাখার নতুন সুযোগ পাই। আজ আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে রয়েছে সামুদ্রিক জ্বালানি খাতের কার্যক্রম, যা এখন কনফিডেন্স গ্রুপের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দীর্ঘ পথচলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেয়েছি। এবিবি, সিমেন্স, রোলস-রয়েস, ম্যান এবং জিই পাওয়ারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি হলো সুশাসন, স্বচ্ছতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা। আজ কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএসির আইপিও কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা আমাদের নিরবচ্ছিন্ন শিল্পযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।
কোম্পানিটির পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে বড় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সময়মতো বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এ ক্ষেত্রে কনফিডেন্স গ্রুপের উল্লেখযোগ্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে গ্রুপটির চারটি ভিন্ন স্থানে চারটি প্ল্যান্ট পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে ডিজেলভিত্তিক প্ল্যান্ট পরিচালনা ও দূরবর্তী স্থানে জ্বালানি পরিবহন বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় গ্রুপটি এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা পেলে দক্ষ ব্যবস্থাপনা দল ও নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। জ্বালানি খাতকে ভবিষ্যতের অন্যতম মৌলিক ও সম্ভাবনাময় খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোম্পানিটির আরেক পরিচালক সালমান করিম বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের সবচেয়ে লাভজনক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কনফিডেন্স গ্রুপ। এ লক্ষ্য অর্জনে কোম্পানির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৭০ শতাংশ আসবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎস থেকে। বর্তমানে দেশের চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে কোম্পানিটির প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কক্সবাজারের লংলা এলাকায় ১০০ মেগাওয়াট এবং পঞ্চগড়ে ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।
তিনি বলেন, কনফিডেন্স গ্রুপের প্রকৌশল, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন, স্টিল ফ্যাব্রিকেশন ও বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সক্ষমতা জোগাবে। গ্রুপটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পিএলসি সম্প্রতি ইজিসিবির অধীনে সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুকরণের কাজের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সালমান করিম বলেন, ‘ভিশন ২০৩৫’ কেবল একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; বরং অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান বাড়ানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।
উল্লেখ, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে তালিকাভুক্ত হতে চায় কনফিডেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। কনফিডেন্স পায়ার মূলত বিদ্যুৎ ব্যবসায় নিয়োজিত কোম্পানি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে এই কোম্পানির ব্যবসা। এটি ২০১৭ সালে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। আর ২০২৪ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৫০ টাকা, আর ১৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা হচ্ছে এর পরিশোধিত মূলধন (আইপিও-পূর্ববর্তী)। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি’র ১১৩ মেগায়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এটি ফার্নেস অয়েলে পরিচালিত হয়। কেন্দ্রটি ২০১৯ সালে উৎপাদনে যায়। আগামী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনা-বেচার চুক্তি রয়েছে।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি একটি হোল্ডিং কোম্পানি। এর অধীনে ৪টি সহযোগী কোম্পানি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেড, জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেড এবং কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেড। প্রথম তিনটি কোম্পানি ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করে। কোম্পানি তিনটির মধ্যে কনফিডেন্স পাওয়ার বগড়া লিমিটেড ও কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেডের উৎপাদনক্ষমতা ১১৩ মেগাওয়াট করে ২২৬ মেগাওয়াট। জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেডের উৎপাদনক্ষমতা হচ্ছে ৫৪.৩৬ মেগাওয়াট।
কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেড হচ্ছে কনফিডেন্স পাওয়ার ও ডোরিন পাওয়ারের যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি। চলতি বছর প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানি ১০০ মেগাওয়াটক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণাধীন আছে।
সহযোগী কোম্পানিগুলোর মধ্যে কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেড ও জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেডের ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। অন্যদিকে কোম্পানিটি কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডের ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে।
আইপিওর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪শ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। উত্তোলিত তহবিলের একটি অংশ কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডে ইক্যুইটি বিনিয়োগ ও ঋণের একাংশ পরিশোধে ব্যবহার করবে কোম্পানিটি।
বর্তমানে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩৯৩.১৬ মেগাওয়াট। আইপিওর অর্থ বিনিয়োগে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে এর সঙ্গে ২৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতা যোগ হবে। তবে ফার্নেস তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালে শেষ হয়ে যাবে। সরকার চুক্তি নবায়ন করলে সেগুলো বহাল থাকবে, না হলে তা বন্ধ হয়ে যাবে।
আবার ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ পলিসির আওতায় চলতেও পারে। এছাড়া মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসির আওতায় অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করারও সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে কোম্পানিটি আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার আহুত দরপত্রে অংশ নিচ্ছে। বরাদ্দ পেলে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতায় নতুন সংযোজন হবে।
চুক্তি অনুসারে, প্রকল্পভেদে সৌরবিদ্যুত কেন্দ্রগুলো ২০৪৮/৪৯ সাল পর্যন্ত সরকারের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করবে। এরপর এগুলো ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে। এছাড়া মার্চেন্ট পাওয়ারে রূপান্তরের সুযোগও থাকবে। ২০২৫ সালে প্রণীত মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার আওতায় বেসরকারি খাতে উৎপাদিত সোরবিদ্যুত অন্য কোনো শিল্পকারখানা অথবা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ বছরে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩১ টাকা ৮৩ পয়সা। আগের দুই অর্থবছরে সমন্বিত ইপিএস ছিল যথাক্রমে ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা ও ৩১ টাকা ৩৩ পয়সা। গত ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৯৩ টাকা ২৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১৬১ টাকা ৪৯ পয়সা।