ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং মেঘনা নদীতে ২৬১ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পৌর শহরের কালিপুর ও ভৈরব বাজার ঋষিপট্টি এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মেঘনার ত্রি-সেতু এলাকায় রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক কে. এম. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মুজিবুর রহমান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন এবং পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, “সরকার তার মেয়াদের মধ্যে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে; বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনশেড ভবনগুলো ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক মাছের সংখ্যা বাড়াতে মুক্ত জলাশয়, হাওর, প্লাবনভূমি ও সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকে ২৬১ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হলো। দেশকে মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে। ভৈরবের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য রাস্তাঘাট, টয়লেট, ডাস্টবিন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলনই আজকের এই উন্নয়ন।”
ভৈরবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগেই ভৈরবের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ভৈরবে একটি বিসিক শিল্প পার্ক ও স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে। এখানে প্রায় ৫০টির মতো মিল-কারখানা স্থাপিত হবে, যা ভৈরবের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এই শিল্প কারখানাগুলো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব ধরনের উন্নয়ন সম্ভব।”
মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি বলেন, “আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। ভৈরবে মাদকসেবীর সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করছে। চুরি, ছিনতাই ও মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আমাদের দলের কেউ যদি এসবের সাথে জড়িত থাকে, তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটি মহল ফেসবুকে শুধুই সমালোচনা করছে। আমি বলব—সমালোচনা না করে আপনারা আসুন, আমাদের সহায়তা করুন। আমাদের নেতাকর্মীদের বা ভৈরব প্রশাসনের যদি কোনো ভুল বা দুর্বলতা থাকে, তা সরাসরি বলুন। আমরা প্রশাসনের দুর্বলতা দূর করব। ভৈরবের স্বার্থে প্রশাসনকে কাজ করতে হবে, তা না হলে এখানে চাকরি করার কোনো সুযোগ নেই। ফেসবুকে বিভ্রান্তিমূলক কথা ও মিথ্যা অপপ্রচার না ছড়িয়ে আমাদের পরামর্শ দিন। প্রয়োজন হলে আসুন, আমার সাথে বসুন। আমাদের সরকারের, জনপ্রতিনিধিদের বা দলের নেতাকর্মীদের কোনো ভুল থাকলে আমাকে জানান। মিথ্যা প্রোফাগান্ডা না ছড়িয়ে আসুন আমরা ভৈরবের উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি। কারণ যেকোনো উন্নয়নের সুফল শুধু সরকারি দল নয়, সর্বস্তরের জনগণ ভোগ করে।”
প্রতিমন্ত্রীর দিনব্যাপী কর্মসূচি থেকে জানা যায়, সকাল ১০টায় কালিপুর ইসলামপুর মহিউল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় ২৬১ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋষিপট্টি নিম্ন-আয়ের এলাকার উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি’ প্রকল্পের অধীনে ঋষিপট্টি হতে টিনপট্টি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।