নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলের নড়াগাতীতে পরকিয়ার টানে প্রবাসীকে বিয়ে করায় ভাংতে বসেছে দুটি সাজানো সংসার। এমনটি অভিযোগ উঠেছে থানার জয়নগর গ্রামের গৃহবধূ ও প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক চম্পা বেগম(৪০) এর বিরুদ্ধে। চম্পা বেগম ওই গ্রামের মিজান সিকদারের স্ত্রী ও থানার ডুমুরীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহঃ শিক্ষক।
ভুক্তভোগী মিজান সিকদার জানান, ২০০৪ সালে ছোট কালিয়া এলাকার ইলিয়াস শেখের মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি এবং নিজ প্রচেষ্টায় ৯ম শ্রেণী পড়ুয়া স্ত্রীকে পড়াশুনা করিয়ে এস এস সিতে দুবার ফেল করে তৃতীয়বার পাশ করে। অতঃপর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরীর পরীক্ষায় পাশ করলেও মেধা তালিকায় অনেক পিছনে থাকে। তারপর আওয়ামিলীগের আমলের তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুবাস বোসের পায়ে পড়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেন। বর্তমানে তাদের ১৮ ও ৮ বছরের দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিগত ৩/৪ বছর পূর্বে গোপনে চম্পা বেগম একই গ্রামের সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে প্রবাসী সোহেল রানা ওরফে সাজ্জাদের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং সোহেল রানার প্রলোভনে সম্প্রতি আমাকে এক তরফা তালাক দিয়ে সোহেল রানাকে বিয়ে করে গোপালগঞ্জে ভাড়া থাকে।
আমাকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে নিঃশ্বেস করে সন্তানদের কথা চিন্তা না করে এভাবে চলে যাওয়ায় সংসারটি ধ্বংস হয়ে গেছে। সকলের কাছে এর বিচার চাই আমি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মিজান সিকদার।
এদিকে সোহেল রানার প্রথম স্ত্রী পিংকির অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করায় বিতর্কে পড়ে যায় সোহেল রানা ও চম্পার বিবাহ। পিংকির পরিবার সামাজিক ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে হেনস্তার শিকার হয়। মেয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ভাবতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যায় পিংকির মা। অতঃপর সুবিচার পেতে পরকিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নড়াগাতী থানা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চম্পা বেগম বলেন, উন্নত জীবন যাপন করতে আইন সম্মতভাবে মিজানকে তালাক দিয়ে তিনি সোহেল রানাকে বিবাহ করেছেন বলে সাংবাদিকের সাথে অশোভন আচারন করেন এবং সাংবাদিক বা পুলিশ কাউকে কিছু বলবেননা বলে জানিয়ে দেন।
এ দিকে অভিযুক্ত সোহেল রানাকে ফোন দিলে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোনটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে ইউএনও কালিয়া মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, পিংকি বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে এবং আগামী ৮ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে এবং বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।