এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। এক দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের আকু দায় পরিশোধের পর মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন তহবিল (এলটিএফএফ) সমন্বয় ছাড়া দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৬৩ বিলিয়ন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী অফিসিয়াল রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭২২ বিলিয়ন ডলার। বাজারমূল্যে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) ২৭ দশমিক ৯২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আকুর বিল পরিশোধের আগে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। নিয়মিত দুই মাস পরপর আকুর দায় পরিশোধের কারণে রিজার্ভে এমন সাময়িক কমেছে।
নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর শুরুতেই প্রবাসী আয় প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ছয় দিনে (১-৬ জুলাই) দেশে ৬৯৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে আসে ৪২৭ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৬ জুলাই একদিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১২৯ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন।
প্রতি দুই মাস অন্তর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানির লেনদেন নিষ্পত্তি করা হয়। এ সময় বাংলাদেশকে আমদানি বিল পরিশোধ করতে হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ ছাড় করা হয়, ফলে রিজার্ভ সাময়িকভাবে কমে যায়।
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) হলো সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত একটি আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। বর্তমানে এর সদস্য দেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানির হিসাব দুই মাস পরপর একবারে নিষ্পত্তি করা হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে আকুর বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স ও অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের মাধ্যমে রিজার্ভ আবার বাড়তে থাকে।