
মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে এক ইজিবাইক চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাস মালিকপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী মোঃ আব্দুল আজিজ (৪৮) আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইতনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ইজিবাইকে করে এক অসুস্থ রোগীকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে শহরের দৌলতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বাস মালিক গ্রুপের লোকজন তার গাড়ি থামিয়ে দেয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় বিএনপি কর্মী ও বাস মালিক গ্রুপের সঙ্গে জড়িত সুরাপ ও ছাত্রদল কর্মী সবুজসহ আরও ৭–৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং রোগীকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেয়। রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে অনুরোধ জানানো হলেও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা আব্দুল আজিজের নাক, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে তার শরীরে নীলাফোলা জখম হয়। একই সঙ্গে ইজিবাইক ভেঙে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার সময় অভিযুক্তরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে। তারা বিএনপি কর্মী পরিচয় দেয় এবং ভুক্তভোগী জামায়াত কর্মী পরিচয় দেওয়ায় আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। অভিযোগে আরও বলা হয়, দৌলতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়মিতভাবে ইজিবাইক চালক ও যাত্রীদের হয়রানি করা হলেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।
ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আব্দুল আজিজ রক্ষা পান। পরে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থলে পাঠান। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে অভিযুক্তরা থানায় এসে উল্টো পাল্টা আচরণ করে এবং পুলিশের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় ভিডিও ধারণের চেষ্টাকালে রাইহান নামে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো বিচার বা আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
ভয়ে ও ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় আব্দুল আজিজ বাড়ি ফিরে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply