রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। প্রত্যেক সজ্ঞান, বালেগ মুসলমান নর-নারীর জন্য রোজা পালন করা ফরজে আইন। শরিয়ত সমর্থিত কোনো কারণ ছাড়া রোজা ছেড়ে দেওয়া কবিরা গুনাহ।
মহান আল্লাহ রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন। পবিত্র কুরআনে তিনি বলেন, সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে। (সুরা বাকারা: ১৮৫)
সুতরাং মুক্তিকামী ঈমানদারের জন্য আবশ্যক হলো, দুনিয়াবি কর্মব্যস্ততা, চাকুরী, কৃষিকাজ, পেশাগত কাজ ইত্যাদিকে রোজা ভঙ্গ করা বা রোজা থেকে দূরে থাকার ওজুহাত হিসেবে দাঁড় না করানো।
বরং কষ্ট হলেও ধৈর্যের সাথে রোজা পালন করা। আল্লাহ তাআলা আখিরাতে এই কষ্টের বিনিময়ে বিশাল পুরস্কার দান করবেন। সাহাবিগণ আরবের উত্তপ্ত মরুভূমিতে কাজ করতেন, জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে অনেক কষ্ট করতেন কিন্তু তারা রোজা ভঙ্গ করতেন না।
তথাপি আল্লাহ তাআলা তার বিধানকে আমাদের ওপর সহজ রাখতে চান। তিনি আমাদের ওপর কঠিন করতে চান না। তাই শরিয়তসম্মত বিভিন্ন কারণে রোজা ভাঙার অনুমতি দিয়েছেন। তবে তা পরবর্তীতে অবশ্যই কাজা আদায় করে নিতে হবে। ইসলামি শরিয়া মোতাবেক যেসব ওজরের কারণে একজন মানুষ সাময়িকভাবে রোজা ভাঙতে পারেন, তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
এক. রোজাদার যদি এমন দুর্বল হয়ে পড়ে যে, রোজা রাখার শক্তিই নেই, এমতাবস্থায় রোজা চালিয়ে গেলে তার শারীরিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। (ফাতাওয়ায়ে শামী: ২/৪২২)
দুই. এমন ক্ষুধা বা পিপাসা লাগে যে, রোজা রাখা অত্যাধিক কষ্টসাধ্য হয়ে যায় অথবা প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২০৭
তিন. যদি এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে যে, রোজা রাখার শক্তি নেই বা রোজা রাখার দ্বারা অসুস্থতা বেড়ে যাবে, তাহলে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। (আল মুহিতুল বুরহানি: ৩/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪২২)
চার. মুসাফিরের জন্য ইসলামের রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। অস্বাভাবিক কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। তবে, সফররত অবস্থায় রোজা রাখা শুরু করলে তা আর ভাঙা জায়েজ হবে না। কিন্তু যদি পিপাসার কারণে প্রাণনাশের আশঙ্কা হয়, তাহলে রোজা ভাঙতে পারবে। (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৩/৪০৩; রদ্দুল মুখতার: ২/৪৩১)
পাঁচ. গর্ভধারিণী বা স্তন্যদানকারিণী মহিলা যদি নিজের অথবা নিজের বাচ্চার প্রাণনাশের আশঙ্কা করেন, তাহলে তিনি রোজা ভাঙ্গতে পারেন।(ফাতাওয়া হিন্দিয়া:১/২০৭)
মনে রাখতে হবে, দুনিয়াবি কাজের ওজুহাতে রোজা না রাখা বা রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া বোর্ডকে প্রশ্ন করা হয় যে, এক ব্যক্তি রুটির দোকানে কাজ করে। সেখানে সে খুবই পানির পিপাসার সম্মুখীন হয় এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কাজের সময় তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ কি? তারা বলেন,
সে লোকের জন্য রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নাই বরং তার জন্য রোজা রাখা ফরজ। রমজান মাসের দিনের বেলায় রুটি বানানো রোজা ভঙ্গ করার জন্য কোনও ওজর নয়। সে সাধ্য অনুযায়ী কাজ করবে।
(ফাতাওয়া লাজনাতুদ দায়েমাহ: ১০/২৩৮)
যদিও কোনো কোনো ফকিহ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, কোনো মানুষের জন্য যদি একদিনের জীবনযাপনের মত কোনো খাদ্য উপকরণ না থাকে, আর সে জীবনযাপনের উপকরণ উপার্জন করতে গিয়ে দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে তার জন্য রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি রয়েছে। তবে তা পরে কাজা করে নিতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী: ৩/২৯৭)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সুস্থতার সহিত সঠিকভাবে সবগুলো রোজা রাখার তাওফিক দান করুন।
Leave a Reply