পাঁচ মাস পর হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় ফিরলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরেন বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে হাসিমুখে বাসার গেটে অপেক্ষমাণ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ঘড়ির কাটায় বিকেল পৌনে পাঁচটা হাসপাতাল ছাড়েন বেগম জিয়া। সঙ্গে ছিলেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ছাড়াও নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা। হুইল চেয়ারে করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গৃহপরিচারিকাদের সহযোগিতায় গাড়িতে ওঠেন বিএনপি নেত্রী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা তার গাড়ি বহর হাসপাতাল থেকে বের করতে গেলে বাধে বিপত্তি। একনজর দলীয় নেত্রীকে দেখতে হাসপাতালের সামনে ভিড় করা নেতাকর্মীদের কারণে মূল ফটকেই আটকে যায় গাড়িবহর।
বসুন্ধরা থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরার পুরো পথেই হাজারো নেতাকর্মীর ভিড় ঠেলে বেগম জিয়ার গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লেগে যায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা। এ সময় কর্মীরা স্লোগানে মুখর করে রাখে পুরো যাত্রাপথ।
পাঁচ মাস দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফিরোজায় প্রবেশ করে বিএনপি নেত্রীর গাড়ি। এ সময় তার ভাই সাঈদ ইস্কান্দার ও তার ছেলেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গাড়ি থেকে নেমেই বেগম জিয়া জড়িয়ে ধরেন নাতনীকে।
এরপর আবারও হুইল চেয়ারে করে বাসার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় বেগম খালেদা জিয়াকে। পরে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থবোধ করায় বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে তার দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপন জরুরি বলেও জানান তিনি।
এ সময় আবারও বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা ও তার সুস্থতার জন্য বিদেশে পাঠানোর আহ্বানও জানান তার চিকিৎসকরা।
৭৮ বছর বয়সি খালেদা জিয়া হার্টের সমস্যা ও লিভারসিরোসিস ছাড়াও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এ ছাড়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতা রয়েছে তার। এরইমধ্যে কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। গত বছরের জুনে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদ্যন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply