আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি রাজনৈতিক টোকাইদের ওপর ভর করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, যাদের নিয়ে মোর্চা করা হয়েছে ওইসব দলের নাম বিএনপি মহাসচিবও মুখস্ত বলতে পারবেন না। যদি বলতে পারেন তাহলে আামি তাকে ধন্যবাদ দেব।
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয়াদি নিয়ে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি বিভিন্ন দলীয় মোর্চার ওপর ভর করেছে। দলীয় মোর্চা মিলে মনে হয় ৫১-৫২ দল হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রশ্ন করবেন যে ৫২টি দলের নাম মুখস্ত বলতে। যদি বলতে পারে তাহলে আামি তাকে ধন্যবাদ দেব।’
মির্জা ফখরুল বলেছেন যে নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না- এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেশ কয়েকবার বলেছিলেন যে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টি আসনও পাবে না। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, ২০০৮ সালে নির্বাচন হয়েছিল, সেটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হিসেবে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য ছিল। সে নির্বাচনে প্রথমে বিএনপি ২৯টি আসন পেয়েছিল। খালেদা জিয়ার ভবিষ্যদ্বাণী তার বেলায় সত্য হয়েছিল। এরপর খালেদা জিয়া কারাগারে। আমি আশ্চর্য হবো না, যদি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভবিষ্যদ্বাণী তার দলের বিষয়ে সত্যি হয়। এ ধরনের অবান্তর কথা বলা সমীচীন না।’
বিএনপি হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেনকে হায়ার করেছিল মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি সর্বশক্তি নিয়ে অংশগ্রহণ করে প্রথমে ২৯টি, পরে উপনির্বাচনে আরও দুটি আসন পেয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। ২০১৮ সালে বিশাল জোট গঠন করে তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তারা আবার প্লেয়ারও হায়ার করেছিল। তারা হেভিওয়েট রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেনকে হায়ার করেছিল। কামাল হোসেন হায়ারে খেলতে গিয়েছিলেন। বিশাল জোট গঠন করে তারা মাত্র সাতটি আসন পেয়েছিল। এতেই বোঝা যায় বিএনপির জনপ্রিয়তা। আমি আশা করব, আগামী নির্বাচনে তারা যেন ত্রিশটির বেশি আসন পায়।’
তারা বলেছেন আওয়ামী লীগের অধীন নির্বাচনেই যাবে না, তাহলে আসন পাবে কীভাবে, প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। দেশে নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীন। তারা আওয়ামী লীগের অধীন নির্বাচনে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও তো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের অধীন যে নির্বাচন হবে, আশা করি, তাতে বিএনপিসহ অন্যরা অংশ নেবে।
তিনি বলেন, এবার তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা জানে যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তাদের কোনো সম্ভাবনা নেই। এ জন্য জনগণের কাছে না গিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে ক্ষণে ক্ষণে ধরনা দিচ্ছে। অনেকে বলেছে, তারা বিদেশি কূটনীতিকদের পদলেহন করছে। কিন্তু বিদেশি কূটনীতিকদের পদলেহন করে বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করা যাবে না। কোনো কোনো কূটনীতিকের পদলেহন করে তাদের মন জয় করা যেতে পারে। মানুষের মন জয় করতে হলে তাদের কাছে যেতে হবে।
বিএনপি যদি ষড়যন্ত্র করে, তাহলে রাষ্ট্রদ্রোহ কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করছে। রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সই করা চিঠি বিভিন্ন রাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের দিয়েছেন। তারা দেশের সাহায্য ও রফতানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেয়েছে। এগুলো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সময়ই বলে দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply