বন্ড লাইসেন্সের আওতায় শুল্কছাড় থাকার পরও কাস্টমসের গ্যাঁড়াকলে বন্দি তৈরি পোশাকের কাঁচামাল আমদানিকারকরা। এতে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে মাশুল।
এইচএস কোড জটিলতায় পড়ে চুক্তিমতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় এক বিদেশি ক্রেতাকে ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়েছেন তৈরি পোশাক রফতানিকারক মনিরুজ্জামান মনির।
তিনি বলেন, ‘গণনায় সামান্য অমিল ছিল। তবে এইচএস কোড ঠিক ছিল। এমনকি ফেব্রিকের ক্যাটাগরিও একই শ্রেণিভুক্ত ছিল। কিন্তু কাস্টমস যখন পণ্য এসেসমেন্ট করেছে, তখন তারা মিস ডিক্লেরেশন দিয়েছেন। তারা বলছেন, ডিওডি দিয়ে পণ্য নিতে হবে। এতে আমার বড় আকারের মাশুল গুনতে হয়েছে। এদিকে বিদেশি ক্রেতাদের প্রায় ৬০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে।’
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আইনের সব সুবিধা কি এই আমদানিকারককে দেয়া হয়েছিল? এর জবাবে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘তারা শুরুতে বলেছিল যে, আপনারা ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপনাদের প্রাপ্যতা ঠিক করে নিয়েন। কিন্তু ফাইল যখন ওপরে উঠল তখন তারা আবার বলেন যে এটি জালিয়াতি।’
শুল্কমুক্ত সুবিধায় গত বছর ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮৭ ডলার মূল্যের ৮৮ হাজার ৮৭৫ কেজি কাপড় আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খুলে বন্ড লাইসেন্সধারী শতভাগ রফতানিমুখী একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে টলারেন্স রাখা হয় ৩ শতাংশ। অর্থাৎ ২ হাজার ৬৬৬ কেজি কাপড় কম বা বেশি আনতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।
শিপমেন্টের তথ্য বলছে, প্রথম চালানে আসে ৪৯ হাজার ১১২ দশমিক ৬০ কেজি। দ্বিতীয় চালানে ২২ হাজার ৬০৫ কেজির সঙ্গে বেশি আসে ১ হাজার ৭২৬ দশমিক ২০ কেজি। তৃতীয় চালানে আসা ১৭ হাজার ১৫৭ কেজি কাপড় ছেড়ে দিলেও মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগ তুলে দ্বিতীয় চালান আটকে দেয় চট্টগ্রাম কাস্টমস। দেন-দরবারে কয়েক মাস পর চূড়ান্ত রায়ে ৩৬ লাখ টাকার বেশি জরিমানা দিতে বাধ্য হন ওই আমদানিকারক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) বলছে, বন্ড লাইসেন্স থাকার পরও প্রায়ই আমদানিকারকদের কাস্টমসের স্বেচ্ছারিতার শিকার হতে হয়।
বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমদানি-রফতানির প্রধান বাধা হচ্ছে কাস্টমস। যখন তারা বেশি ডিমান্ড করে ফেলেন, তখন আমদানিকারকরা হয়তো সেটি দিতে চান না। তখনই একটি প্যাঁচ লেগে যায়। সে সময়ে কাস্টমস কাগজে এমন একটি প্যাঁচ লাগিয়ে দেয় যে সেটি ঠিক করার ক্ষমতা কমিশনারেরও থাকে না।’
এ অবস্থায় চাইলেই ভোগান্তি-জরিমানা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কমিশনার মো. আবদুল কাফি। তিনি বলেন, ‘যদি কাস্টমস তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তগুলো দিয়ে দিত তাহলে আমদানিকারক এতটা ক্ষতির মুখে পড়তেন না।’
তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের আইনে এমন বেশকিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো যৌক্তিক নয়। কিন্তু সেগুলো আইনে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বন্ড লাইসেন্সের আওতায় বিনা শুল্কে কাঁচামাল আমদানি করতে পারেন তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা। তবে এক বছরের মধ্যে ওই কাঁচামালের তৈরি পণ্য রফতানি করতে না পারলে গুনতে হয় জরিমানা।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply