প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি বিনোয়োগ আসলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজ হবে। তাই বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার নিজস্ব প্রধান কার্যালয় চালু করা হলো।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডার নিজস্ব প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন শতভাগ বিদ্যুতের দেশ।
ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে এসে যাতে ফিরে না যায়, সেই চেষ্টা অব্যহত আছে। পৃথিবীর ১০টি গ্রিন কারখানার মধ্যে ৭টি বাংলাদেশের।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন অনেক দক্ষ। আমরা ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। আমরা চাই বিদেশিদের পাশাপাশি দেশের তরুণ সমাজ বিনিয়োগ করুক। খাদ্য ও কৃষিখাতে বিনিয়োগ আমি বেশি চাই। আমাদের মাটি ঊর্বর। বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম অনেক বেড়েছে, তাই খরচ কমাতে নিজেদের উৎপাদনে মন দিতে হবে।’
গ্যাস-বিদ্যুৎ নয়, কৃষিতে ভর্তুকির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে খরচ তার থেকে অনেক কম টাকা নেয়া হচ্ছে। আমাদের প্রতি কিলোওয়াটে ১২ টাকা উৎপাদন খরচ। আর আমরা নিচ্ছি মাত্র ৬ টাকা। তাতেই অনেক চিৎকার শুনি। আর ইংল্যান্ডে কিন্তু দেড়শ ভাগ দাম বাড়ানো হয়েছে, এটা সবার মনে রাখতে হবে। বিদ্যুৎ-গ্যাস দেয়া যাবে যদি সবাই উৎপাদন খরচ দেয়। ক্রয়মূল্যটা সবার দিতে হবে।
‘আমরা বিদ্যুৎ-গ্যাসে নয়, আরও ভর্তুকি দিতে চাই কৃষিতে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর পেছনে অনেক টাকা আমদানিতে ব্যয় করতে হয়।’
তিনি বলেন, আমরা এখন ৩২তম বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ। মাত্র ১৪ বছরে দেশ এ অবস্থায় পৌঁছেছে। মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বাজার সম্প্রসারণ হয়েছে।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একইসাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।