বিপিএলের এবারের আসর থেকে প্রথম দল হিসেবে বাদ পড়ল ইয়াসির-তামিমের খুলনা টাইগার্স। ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ৩৭ রানের হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তাদের।
পয়েন্ট টেবিলের সেরা চারটি দল নকআউটে যাবে। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে এখন সবার শীর্ষে আছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। দুইয়ে থাকা বরিশালের পয়েন্ট ১৪। ১২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে কুমিল্লা, ১০ পয়েন্ট নিয়ে চারে রংপুর রাইডার্স। অর্থাৎ খুলনা বাকি দুই ম্যাচে জিতলেও রংপুরকে পেছনে ফেলতে পারবে না তারা।
শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে ১৯৫ রানের টার্গেট পায় খুলনা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান করতে সক্ষম হয় তারা।
খুলনার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ছায়া হয়ে ছিলেন তামিম ইকবাল। ৩ বলে মাত্র ১ রান করে ওয়াসিমের শিকার হন তিনি। আরেক ওপেনার অ্যান্ড্রু বালবার্নি করেন ১২ রান। এরপর হাল ধরেন আগের ম্যাচে বড় ইনিংস খেলা শাই হোপ। কুমিল্লার বিপক্ষে ৯১ রান করা হোপ এদিন ২৪ বলে করেন ৩৭ রান।
এরপর ইয়াসির আলিই সত্যিকার অর্থে জয়ের চেষ্টা চালান। তাকে কিছু সময়ের জন্য নাহিদুল ইসলাম সঙ্গ দেন। তবে তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। নাহিদুল করেন ২৪ রান। করিম জানাতের বলে আউট হওয়া ইয়াসির ৩৮ বলে করেন ৬০ রান। তাতেই বিপিএলের এবারের আসরের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় খুলনার।
এর আগে ইফতিখার-সাকিব ও ফজলে মাহমুদের ব্যাটে ভর করে ১৯৪ রান করে বরিশাল। উদ্বোধনী জুটিতে ৩২ রান তোলে তারা। এ সময় ভন মীকেরেনের বলে শফিকুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান এনামুল হক। ফজলে মাহমুদ ২৯ বলে করেন ৩৯ রান। ইব্রাহিম জাদরান আউট হন ২৩ রানে। এরপর লম্বা জুটি গড়েন সাকিব ও ইফতিখার আহমেদ মিলে। সাকিব-ইফতিখারে বরিশাল তোলে ৫২ রান। দ্বিতীয় জন শুরুতে কিছুটা রক্ষণাত্মক ঢংয়ে খেললেও সাকিব ছিলেন আক্রমণাত্মক। ২১ বলে ৩৬ রান করার পর মীকেরেনের বলে আউট হন তিনি। দেশসেরা অলরাউন্ডারের ইনিংসে ছিল ৪টি ছক্কা ও একটি চার।
সাকিব আউট হওয়ার পর ঝড় তোলেন ইফতিখার। তাতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আউট হওয়ার ওভারেই উঠে ১৬ রান। পাকিস্তানি ব্যাটারকে চমৎকার সঙ্গ দেন করিম জানাত। শফিকুল ইসলামের করা ১৯তম ওভারে পরপর তিনটা বাউন্ডারি মেরে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। অন্যপ্রান্তে ৩০ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৫১ রান করেন ইফতিখার। করিম জানাত ২০০ স্ট্রাইকরেটে তোলেন ১৬। ঢাকার হয়ে ৩টি উইকেট নেন মীকেরেন। একটি করে উইকেট পান নাহিদুল ইসলাম ও হাসান মুরাদ।