জয় দিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চট্টগ্রাম পর্ব শুরু করেছে ফরচুন বরিশাল। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে সাকিব বাহিনী হারিয়েছে ২৬ রানে।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) বরিশালের দেয়া ২০৩ রান তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রানে থেমেছে চট্টগ্রামের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন জিয়াউর রহমান। বরিশালের হয়ে একটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, খালেদ আহমেদ, কামরুল ইসলাম ও করিম জানাত।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মারমুখো ব্যাটিং উপহার দেন চট্টগ্রামের উসমান খান। গত ম্যাচে সেঞ্চুরিয়ানকে অবশ্য এদিন বেশিদূর যেতে দেননি কামরুল ইসলাম রাব্বি। ১৯ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ রান করে এ পাক ব্যাটার ক্যাচ তুলে দেন সানজামুল ইসলামের হাতে। অপরপ্রান্তে খুব একটা আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা যায়নি ম্যাক্স ও’দাউদকে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সঙ্গ দিতে উম্মুখ চাঁদও ব্যাট করেছেন মন্থর গতিতে।
তাদের ৩৩ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। ও’দাউদ ২৯ বল মোকাবিলায় ২ চার ও এক ছক্কায় ২৯ রান করেন। এক ওভার পর বিদায় নেন চাঁদও। ২১ বলে মাত্র একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১৬ রান করা চাঁদকে বোল্ড করেন করিম জানাত। চতুর্থ উইকেটে এসে ম্যাচের হাল ধরার চেষ্টা করেন আফিফ হোসেন। তবে ৪ চারের মারে ২১ বলে করা তার ২৮ রানের ইনিংসটি খুব একটা প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারেনি চট্টগ্রামের ইনিংসে।
দলীয় ১৩০ রানে ইনিংসের ১৮তম ওভারের প্রথম বলে তিনি খালেদ আহমেদের বলে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ততক্ষণে পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় চট্টগ্রামের। ১৭ বলে জয়ের জন্য তখনো স্বাগতিকদের প্রয়োজন ছিল ৭৩ রান। শেষদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন জিয়াউর রহমান। ২৫ বল মোকাবিলায় ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতে হারের ব্যবধান কিছুটা কমে আসে। ১৭৬ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান সংগ্রহ করে বরিশাল। সাবিকদের বড় সংগ্রহ এনে দেয়ার নায়ক ইফতিখার আহমেদ অপরাজিত ছিলেন ৫৭ রানে। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮ রান আসে ইবরাহিম জাদরানের ব্যাট থেকে। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করলেও রান দেয়ার ক্ষেত্রে আবু জায়েদ ছিলেন বেশ খরুচে। ৪ ওভারে তিনি দেন ৪৯ রান। ৫৩ রান দিয়ে এক উইকেট তুলে নেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।
ব্যাট করতে নেমে ফরচুন বরিশালের দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ দলকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন। দুইশো স্ট্রাইকরেটে ৩ চার ও এক ছক্কায় ১২ বলে ২৪ রান করেন এবারের আসরে প্রথম ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া মিরাজ। আরও বেশি বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আগে জিয়াউর রহমানের ক্যাচে পরিণত করে তাকে সাজঘরে ফেরান তাইজুল ইসলাম। ওয়ান ডাউনে নেমে আজ সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৩ বলে ২ চারের মারে ৮ করে তিনি বোল্ড হন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর বলে।
পাওয়ার প্লের আগে ২ উইকেট হারালেও তাদের রানের গতি থাকে টি-টোয়েন্টি সুলভই। ওপেনার এনামুল হক বিজয় ইনিংসের অষ্টম ওভারে বিদায় নেন ২১ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে। তার ব্যাট থেকে আসে ৫টি চারের মার। ৭১ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের হাল ধরতে ক্রিজে আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পিচে তার সঙ্গী ছিলেন ইবরাহিম জাদরান। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১১ ওভারেই শতরান তুলে পেলে বরিশাল। রিয়াদ ১৭ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৫ রান করে আউট হলেও ক্রিজের একপ্রান্ত আগলে রাখেন ইবরাহিম। তাকে সঙ্গ দিতে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ক্রিজে আসেন ইফতিখার আহমেদ।
দলীয় ১৪৭ রানে ফিফটির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন ইবরাহিম। ৩৩ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কার মারে ৪৮ রান করা আফগান ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান আবু জায়েদ। তাতে কিছুটা মন্থর হয়ে যায় বরিশালের রানের চাকা। তবে ১৯তম ওভারের শেষ তিন বলে আবু জায়েদকে টানা তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ফের দলকে লড়াইয়ে ফেরান ইফতিখার।
দুইশোর ওপর স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে ২৬ বলে ৫৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসটি ৩ চার ও ৫ ছক্কার মারে সাজানো ছিল। তাতে চট্টগ্রামের সামলে লক্ষ্যটা গিয়ে দাঁড়ায় পাহাড়সম। যে বাধা টপকাতে পারেনি স্বাগতিকরা।
৩ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠে এসেছে বরিশাল। সমান ম্যাচে এক জয়ে পাঁচে অবস্থান করছে চট্টগ্রাম। ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই আছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।