নিজের মধ্যে দেশপ্রেম থাকলে দেশের বাইরে থেকেও দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে দায়িত্ব পালন করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত সদস্যদের কৃতি সন্তানদের ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২২’ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
পুলিশপ্রধান বলেন, দেশ যদি উন্নত হয়, সমৃদ্ধ হয় তাহলে তোমাদের সাফল্য, মা-বাবার কষ্ট সফল হবে। তোমরা ভালো রেজাল্ট করে মা-বাবার মুখ যেমন উজ্জ্বল করেছ, তেমনি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রেও তোমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। নিজের মধ্যে দেশপ্রেম থাকলে দেশের বাইরে (বিদেশে) থাকলেও নিবেদিত হয়ে দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করা যায়।
কৃতি সন্তানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের জ্ঞান শুধু পাঠ্য বইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে হবে।ডিজিটালাইজেশনের কারণে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মোবাইলের ব্যবহার বাড়ছে। মোবাইল দিয়ে অনেক কিছু জানার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা ডিজিটাল ডিভাইস অবশ্যই ব্যবহার করব। কিন্তু এর মধ্যে হারিয়ে যাব না।
আইজিপি আরও বলেন, জীবনে ব্যর্থতা আসতে পারে। সব কাজে সফলতা আসবে-এমন নয়। এজন্য দমে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সবার মাঝে অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, জীবনের যে কোনো পর্যায়ে সাফল্য আসতে পারে। আমরা ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই না, আমরা সফল হতে চাই। আমরা অন্যের কাছে অনুপ্রেরণা হবো, যাতে অন্যরা আমাদের দেখে শিখতে পারে।
তিনি বলেন, করোনাকালে যখন মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে তখন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে নিজের বেঁচে থাকার জন্য মা-বাবাকেও ছেড়ে চলে যেতে আমরা দেখেছি। সন্তান অনেক সময় মা-বাবাকে ছেড়ে চলে যায়, তাদের পরিত্যাগ করে। সাধারণত মা-বাবা সন্তানকে ছেড়ে চলে যায়, এ রকম আমরা দেখি না। এ অবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশ পুলিশ যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের সেবা দিয়েছে, মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়েছে, দাফন-কাফন করেছে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে পুলিশ মানুষের ভালোবাসার অর্জন করেছে, আস্থা অর্জন করেছে।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন কৃতি সন্তান হিসেবে তোমাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে প্রধান অতিথি মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন এআইজি (এডুকেশন, স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার) মো. সোহেল রানা। কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মধ্যে বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ডিআইজি শাহীনা আমীন এবং ডিএমপির এডিসি এবিএম জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিগণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং কৃতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২১ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সব বিষয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৭৭৭ জন এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সব বিষয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০২ জনসহ মোট ১ হাজার ৩৭৯ জন মেধাবৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় এসএসসি পরীক্ষায় ১৫০ জন এবং এসএসসি পরীক্ষায় ১০২ জনসহ মোট ২৫২ জনকে মেধাবৃত্তি দেয়া হয়েছে।