নির্ধারিত সময়সীমার পাঁচ মাস পার হলেও বেশিরভাগ নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই)) সময়মতো ২০২১-এর জন্য লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, লভ্যাংশ ঘোষণার বিলম্ব হওয়াতে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা আর্থিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যা তাদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানিকে ক্যালেন্ডার বা আর্থিক বছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে লভ্যাংশ দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুসারে তালিকাভুক্ত ২৩ টি এনবিএফআই এর মধ্যে, ১২ টি ২০২১ সালের জন্য নির্ধারিত সময়ে এবং প্রথম-ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে (জানুয়ারি-মার্চ) লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিএসইসি কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, “সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য সময়মতো লভ্যাংশের সুপারিশ করা এবং আর্থিক প্রতিবেদন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ফাইল করা বাধ্যতামূলক। বিভিন্ন কারণে কিছু কোম্পানি তা করতে ব্যর্থ হয়। বিলম্বের বৈধ কারণ দেখালে নিয়ন্ত্রক জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়াতে পারে।”
তবে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এনবিএফআইগুলো দাবি করেছে যে তারা অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সময়মতো তাদের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সচিব সাইদুজ্জামান বলেন, আমরা সময়মতো আর্থিক প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। আমাদের রিপোর্ট এখনও পরিষ্কার করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদান এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা করে। কেন এনবিএফআইগুলোর জন্য বিলম্ব ঘটছে তা আমাদের দেখতে হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, প্রতিটি কোম্পানিকে লভ্যাংশ দিতে হবে এবং সময়মতো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে যাতে বিনিয়োগকারীরা সঠিক সময়ে সঠিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তিনি বলেন, আর্থিক তথ্যের সহজ অ্যাক্সেস বাজারকে আরও পরিপক্ক করতে সাহায্য করে।
তালিকাভুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পরপরই তাদের আর্থিক বিবরণী জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করতে হবে। এবং এটি বার্ষিক সাধারণ সভার পরপরই কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা উচিত। অনেক কোম্পানি নিয়ম মানছে না।
ডিএসইর পরিচালক বলেন, সকল কোম্পানি যাতে নিয়ম-কানুনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় সেজন্য ডিএসই কাজ করছে।
Leave a Reply